এসআইআর মামলায় জ্ঞানেশ কুমারকে ‘সুপ্রিম’ নোটিস
- সাসপেনশনের আর্জি খারিজ

ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার
এসআইআর (বিশেষ নিবিড় সংশোধন) কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নোটিস দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে আপাতত স্বস্তিতে আছেন জ্ঞানেশ কুমার। তাকে সাসপেন্ড করার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, এসআইআর সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কী ভাবে নেওয়া হয়েছিল।
মামলাকারীদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্যের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে নেওয়া হয়েছিল। এসআইআর সংক্রান্ত প্রায় ১৪টি সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। তাদের দাবি, নির্বাচন কমিশন একটি বহু-সদস্যের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। ফলে তার ক্ষমতা কোনও এক জনের হাতে কেন্দ্রীভূত হতে পারে না।
সেই অভিযোগের ভিত্তিতে জ্ঞানেশ কুমারকে অন্তর্বর্তী ভাবে সাসপেন্ড করার আর্জি জানানো হয়েছিল। কিন্তু শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট করে দেয়, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য না শুনে এমন কোনও নির্দেশ দেওয়া হবে না। আদালতের প্রশ্ন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরিয়ে দিলে নির্বাচন কমিশনের কাজই বা চলবে কী ভাবে?
তবে এখানেই শেষ নয়। আদালত বুঝিয়ে দিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগ নথি দেখে খতিয়ে দেখা হবে। আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত না হলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নেওয়ার কথা। সেই প্রক্রিয়া মানা হয়েছিল কি না, কমিশনের জবাব পাওয়ার পরই তা বিচার করবে শীর্ষ আদালত। আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত বাতিল করার কথাও জানিয়েছে আদালত।
আর এই শুনানিতেই সামনে এসেছে ‘ফর্ম ৬’ বিতর্ক। বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সময়ে ফর্ম ৬-এ যে পরিবর্তিত ঘোষণা যুক্ত করা হয়েছিল, তা নিয়ে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে—সুপ্রিম কোর্ট ওই পরিবর্তিত ‘ফর্ম ৬’ অনুমোদন করেনি। আদালত নথি দেখে জানতে চায়, “কে ফর্ম ৬ পরিবর্তন করেছেন?”
ফলে এক দিকে জ্ঞানেশ কুমারের সাসপেনশনের আবেদন আপাতত খারিজ, অন্য দিকে তার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সরাসরি নজর। বিরোধীদের অভিযোগের রাজনৈতিক চাপের মধ্যেই এ বার আদালতের নজর নির্বাচন কমিশনের ’সম্মিলিত সিধান্ত গ্রহণ’ এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধনের নেপথ্যের সিদ্ধান্তপ্রক্রিয়ায়। এখন দেখার, কমিশনের জবাবে কী উঠে আসে এবং সেই নথির ভিত্তিতে পরবর্তী শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট কোন পথে এগোয়।



