খবর প্রকাশেও নিতে হবে অনুমতি!
মোদি সরকারের গোপনীয়তা আইনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে সংবাদমাধ্যম
- ‘এ তো আগাম সেন্সরশিপ’, বার্তাকক্ষ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশনা সংস্থাগুলির
- সাংবাদিকদের জন্য আইনে স্পষ্ট ছাড় না থাকায় প্রশ্ন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়েও।

খবর প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মতি নিতে হলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ কী হবে? নরেন্দ্র মোদি সরকারের গোপনীয়তা আইন ঘিরে এই প্রশ্নেই এবার সরব দেশের সংবাদমাধ্যমের বড় অংশ। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে সুপ্রিমকোর্টে এই আইনের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করেছে ২১টি সংবাদ প্রকাশক সংস্থার সংগঠন। তাদের আশঙ্কা, এই আইন কার্যকর হলে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব হওয়ার পাশাপাশি সংবাদকক্ষ বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।
যাদের নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হবে, তাঁদের সম্মতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা সাংবাদিকতার কাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আদালতে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমের পক্ষ। ডিজিটাল নিউজ পাবলিশার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিএনপিএ)- এর আইনজীবী মাধবী গোরাডিয়া দিওয়ান শুনানিতে বলেন, এই আইন সংবাদ বলতে কী বোঝায়, সেই ধারণাটিকেই বদলে দিচ্ছে। তাঁর কথায়, খবর প্রকাশের জন্য যদি অনুমতি নিতে হয়, তাহলে সংবাদকক্ষ বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি এই ব্যবস্থাকে ‘সম্পূর্ণ আগাম সেন্সরশিপ’ বলেও অভিহিত করেন।
মোদি সরকারের এই আইন নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে ভারতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা কমেছে বলে অভিযোগ করে আসছেন সমালোচকেরা। তাঁদের বক্তব্য, মূলধারার বহু সংবাদমাধ্যম সরকারের কাজকর্ম যথেষ্ট কঠোরভাবে খতিয়ে দেখছে না।
এমনকি ডিএনপিএ-র সদস্যদের মধ্যে রয়েছে মুকেশ আম্বানির মালিকানাধীন নেটওয়ার্ক১৮, গৌতম আদানির এনডিটিভি, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এবং টাইমস গোষ্ঠীর সংস্থা টাইমস ইন্টারনেট- সহ একাধিক বড় সংবাদ প্রকাশক। সংগঠনটির অভিযোগ, বিতর্কিত বিধানগুলি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। এমনকি, সংবাদমাধ্যমকে প্রকাশিত প্রতিবেদন মুছে ফেলতে বাধ্য করা এবং সাংবাদিকদের তথ্যসূত্র ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। সরকারের হাতে প্রকাশকদের কাছ থেকে তথ্য চাওয়ার ক্ষমতা থাকায় এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
সংবাদপ্রকাশক সংস্থাগুলির দাবি, ২০২৭ সালের মে মাস থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকা আইনের অধিকাংশ বিতর্কিত বিধান বাতিল করা হোক। চলতি বছরের অগস্টে সরকারের সঙ্গে বৈঠকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার আশ্বাস মিললেও, আইনে সাংবাদিকদের জন্য স্পষ্ট লিখিত ছাড় না থাকায় উদ্বেগ কাটেনি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সিঙ্গাপুর ও ব্রিটেনের আইনে সাংবাদিকদের জন্য যে ধরনের ছাড় রয়েছে, তার কথাও আদালতে তুলে ধরা হয়েছে। শুনানিতে জানানো হয়, আইনের আগের খসড়ায় সাংবাদিকদের ছাড় দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু চূড়ান্ত সংস্করণে তা রাখা হয়নি।
এর আগে কয়েকটি ছোট সংবাদমাধ্যম ও বাক্স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলনকারীরা আইনটির বিরোধিতা করেছিলেন। তবে আম্বানি ও আদানিদের সংবাদমাধ্যম সহ মোট ২১টি প্রকাশনা সংস্থার এই মামলা আইনটির বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য আইনি চ্যালেঞ্জ। সুপ্রিম কোর্ট আগামী মাসে মামলাটির পরবর্তী শুনানি ধার্য করেছে।



