সুপ্রিম কোর্টে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ
দিল্লির বিক্ষোভে ২০০০ কোটি রুপি ক্ষতি

দিল্লির প্রাণকেন্দ্র কনট প্লেসে তখন বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের প্রবল বিক্ষোভ । ভিড়ের চাপে কে জি মার্গের মুখে একটি কোণায় কোনও রকমে দাড়িয়ে আছি ।হটাৎই জামায় একটা টান। তাকিয়ে দেখি একটি বছর ১২র মেয়ে । বলছে “কুছ খানে কি লিয়ে দো “। মেয়েটিকে আমি আগেও দেখেছি এখানে । গোলাপ বা সূর্যমুখী ফুল বিক্রি করে ট্রাফিকে দাঁড়ানো গাড়ি গুলিকে। ফুল কই জিজ্ঞাসার উত্তরে বলল “ইতনা ঝামেলা,গাড়ি বন্ধ,ফুল নেহি মিলা তিন-চার দিনসে ।ইস লিয়ে ভিখ মাঙ্গ রুহি হু।চার সামশা দো ।মা,ভাই বাহেন ভি হ্যায় । কুচ নেহি খায়া সুবাসে “। এই ছোট জুলির মতোই একই অবস্থা তামাম দিল্লির বাবদায়ীদের । নবরাত্রি ও দীপাবলির উৎসবের মৌসুমে বিরোধীদের জ্ঞানেশ বিরোধী,এই আন্দোলনের ফলে এখনও পর্যন্ত ২০০০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বাবসায়ীদের বলে জানিয়েছে দিল্লির বাণিজ্য সংগঠন গুলি । এই মর্মে দিল্লি হাই কোর্টে ও সুপ্রিম কোর্টে মামলাও করেছেন তারা ।
দিল্লির ব্যবসায়ীদের সংগঠন চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিটিআই) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দিয়ে নবরাত্রি থেকে দীপাবলি পর্যন্ত রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও কেন্দ্রীয় এলাকায় বড় জমায়েতের উপর বিধিনিষেধ আরোপের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনের চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়ালের বক্তব্য, যন্তর মন্তর, সংসদ মার্গ এবং লুটিয়েন্স দিল্লিতে বার বার বিক্ষোভ, রাস্তা অবরোধ ও মেট্রো পরিষেবায় বিঘ্নের কারণে ক্রেতাদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ব্যবসায়।
সিটিআইয়ের দাবি,শুধু গত তিন দিনে দিল্লির বাজারগুলিতে ব্যবসা প্রায় ৭০ শতাংশ কমেছে। অন্য রাজ্য ও শহর থেকে কেনাকাটার জন্য দিল্লিতে আসা ক্রেতার সংখ্যা কমেছে ।যা দৈনিক দুই থেকে তিন লক্ষ থেকে নেমে ৪০-৫০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় ক্রেতাদের আনাগোনাও কমেছে ৫০ শতাংশের বেশি। রাজধানীর প্রায় ১৫ লক্ষ ব্যবসায়ীর স্বার্থের কথা তুলে ধরে সংগঠনটি উৎসবের মরসুমে বড় জমায়েত নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দিল্লির বাইরে একটি স্থায়ী বিক্ষোভস্থল তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠন ।
ব্যবসায়ীদের আরও দাবি, বিক্ষোভ ঘিরে ব্যারিকেড, যান চলাচলে বিধিনিষেধ এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রণের জেরে প্রায় ২০০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এই দাবি নিয়েই দিল্লি হাই কোর্টে জরুরি শুনানির আবেদন করে আইনজীবী ও ব্যবসায়ীদের সংগঠনগুলি। নির্দিষ্ট বিক্ষোভস্থলে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) কার্যকর করার আর্জি জানিয়েছে তারা। আবেদনকারীদের হয়ে সওয়াল করে প্রবীণ আইনজীবী সচিন পুরী বলেন, নতুন করে কোনও ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া তাদের উদ্দেশ্য নয়, বরং আগে থেকে নির্ধারিত নিয়ম কার্যকর করাই তাঁদের দাবি। অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল চেতন শর্মা প্রথমে জানান, বিক্ষোভ সংক্রান্ত বিষয় সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। পরে অবশ্য দিল্লি হাই কোর্টে ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে আপত্তি করেননি তিনি।এই বিষয়ে খান মার্কেট ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সঞ্জীব মেহরা জানান, পুলিশের ব্যারিকেডের কারণে বাজারে যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দোকান খোলা থাকলেও ক্রেতার সংখ্যা নগণ্য। এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের বিরোধীদের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির কাছে যাওয়ার সময় প্রমাণ পেশ করা হয়নি কেন? তার অভিযোগ, কোনও বড় কেলেঙ্কারির প্রমাণ না থাকলেও আন্দোলন দীর্ঘায়িত করে মানুষের মনে একটি নির্দিষ্ট ধারণা তৈরির চেষ্টা চলছে।
এই বিষয়ে দিল্লির মিনি বেঙ্গল বলে খ্যাত চিত্ত রঞ্জন পার্ক অঞ্চলের মাছ বাবসায়ী অরবিন্দ দাস জানালেন” বিপ্লব করছেন ওনারা রাজনৈতিক স্বার্থে ।আমাদের তো কোনও এস আই আর নিয়ে অসুবিধা হয়নি ।সবার সময় মতো নাম উঠে গেছে । শুধু শুধু মার খাচ্ছি আমরা ছোট ব্যবসায়ীরা।”



