নরেন্দ্র মোদিকে প্রকাশ্য বিতর্কে বসার চ্যালেঞ্জ রাহুল গান্ধীর
- বিচারক হিসেবে মানতে রাজি মোহন ভাগবতকেও

বিরোধীদের দেশবিরোধী বলে আক্রমণ করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাদের বিরুদ্ধে বিদেশি শক্তির সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগও উঠছে। সেই অভিযোগের সত্যতা প্রকাশ্যে প্রমাণ করার জন্য এবার সরাসরি বিতর্কে বসার চ্যালেঞ্জ জানালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। শুধু তাই নয়, বিতর্কের বিচারক হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবতের নামও প্রস্তাব করেছেন তিনি। রাহুলের বক্তব্য, বিতর্কের জায়গা, সময় এবং বিচারক— সবই ঠিক করার স্বাধীনতা থাকছে প্রধানমন্ত্রীর হাতে। শুধু তাকে আলোচনায় আসতে হবে।
সমাজমাধ্যম এক্সে ৩ নভেম্বর রাতে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন কংগ্রেস নেতা। সেখানে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে প্রথমবার বিতর্কের চ্যালেঞ্জ জানানোর পর ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গিয়েছে। তবু কোনও উত্তর মেলেনি। এবার মোদিকে উদ্দেশ করে রাহুল বলেন, বিরোধীরা যদি সত্যিই দেশবিরোধী হন, তাহলে প্রকাশ্য মঞ্চে এসে সেই অভিযোগের প্রমাণ দিন। কে দেশবিরোধী, কার সঙ্গে বিদেশি শক্তির যোগাযোগ রয়েছে এবং সেই যোগাযোগের ধরন কী— সব প্রশ্নের উত্তর সরাসরি আলোচনায় উঠে আসুক।
রাহুল প্রস্তাব দিয়েছেন, আলোচনায় উপস্থিত থাকবেন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি এবং দেশের তরুণ প্রজন্ম। একটি টেবিলের দু’পাশে মুখোমুখি বসবেন প্রধানমন্ত্রী ও তিনি। বিচারক কে হবেন, তাও ঠিক করবেন মোদি। এমনকি আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতকে বিচারকের আসনে বসালেও তার আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা। ভিডিও বার্তায় তার কটাক্ষ, “ডারিয়ে মৎ” অর্থাৎ ভয় পাবেন না, আলোচনায় আসুন।
এই বিতর্কে শুধু বিদেশি যোগাযোগের অভিযোগ নয়, আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলতে চান রাহুল। তার তালিকায় রয়েছে দেশের আর্থিক ব্যবস্থা, ভারত-আমেরিকা চুক্তি এবং সেটি এত দ্রুত কেন চূড়ান্ত করা হল, মন্ত্রিসভার সঙ্গে আলোচনা না করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল কি না, আদানি সংক্রান্ত মামলা বন্ধ হওয়ার কারণ এবং জেফরি এপস্টিনকে ঘিরে ওঠা প্রশ্ন।
প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিদেশি শক্তির সাহায্য নেওয়ার অভিযোগও আগেই তুলেছিলেন রাহুল। পাল্টা মোদি সরাসরি নাম না করে বিরোধীদের বিরুদ্ধে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য মিথ্যা ও গুজব ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছিলেন। সেই রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই রাহুলের নতুন চ্যালেঞ্জ।
এদিন নিজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মানহানির মামলার প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। রাহুলের দাবি, বিভিন্ন বিষয়ে কারণে অকারণে তার বিরুদ্ধে প্রায় ৪৫টি মানহানির মামলা হয়েছে। কিন্তু বিদেশি যোগাযোগ নিয়ে তার অভিযোগের পরেও প্রধানমন্ত্রী মামলা করেননি। মোদিকে মামলা করারও চ্যালেঞ্জ জানান তিনি। তার বক্তব্য, প্রকাশ্য আলোচনায় সব অভিযোগের সত্যতা যাচাই হোক।



