পরীক্ষায় চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে হাতেনাতে ধরা, পরে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

সাহিল ওয়াকোদের (বামে) আত্মহত্যার পর ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত
ভারতে পরীক্ষার সময় চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করতে গিয়ে ধরা পড়ার পর আত্মহত্যা করেছেন ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির (আইআইটি বোম্বে) এক শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ক্যাম্পাসে। গত সাত মাসের মধ্যে আইআইটি বোম্বে ক্যাম্পাসে এটি আত্মহত্যার তৃতীয় ঘটনা।
আইআইটি জানিয়েছে, ‘এনার্জি সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং’ বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সাহিল ওয়াকোদে পরীক্ষার সময় উত্তর পেতে প্রশ্ন আপলোড করেছিলেন চ্যাটজিপিটিতে। তবে বিষয়টি ধরে ফেলেন শিক্ষক।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রশিক্ষক এবং বিভাগীয় প্রধান তাকে আশ্বাস দিয়েছিলেন, এটি তার শিক্ষাজীবনে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। শিক্ষকদের সঙ্গে এই আলোচনার পর সাহিল তার হোস্টেল কক্ষে ফিরে যান। পরে সন্ধ্যায় সেখানে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় শোক জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে আইআইটি বোম্বে কর্তৃপক্ষ। আশ্বাস দিয়েছে ঘটনাটি তদন্ত করে দেখারও। আইআইটি বোম্বে ক্যাম্পাসে সাত মাসের মধ্যে এটি আত্মহত্যার তৃতীয় ঘটনা।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে হোস্টেলে দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্র আত্মহত্যা করেছিলেন। জুলাই মাসে নতুন সেমিস্টারের শুরুতে দ্বিতীয় বর্ষের আরেক ছাত্র আত্মহত্যা করেন।
সাহিলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আইআইটি বোম্বে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এই ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ইনস্টিটিউট সম্পূর্ণ সত্য প্রকাশ করছে না।
শিক্ষার্থীদের দাবি, নকল করার অভিযোগে সাহিলকে এক বছরের জন্য বহিষ্কারের (সাসপেনশন) হুমকি দেওয়া হয়েছিল। সেটি হলে তাকে হোস্টেল ছেড়ে ক্যাম্পাসের বাইরে থাকতে হতো।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ভয় ও চাপের কারণেই হয়তো সাহিল এই চরম পদক্ষেপ নিয়েছেন। বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনের কাছে ‘জবাবদিহিতা’ দাবি করেছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে বিপুল পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দত্তাত্রেয় নালাওয়াডে জানিয়েছেন, এ ঘটনার তদন্ত চলছে।
সূত্র: এনডিটিভি



