ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নিয়োগ চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূল

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের সামনে একদল সাংবাদিক। ফাইল ছবি / রয়টার্স
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ দোলা সেন। মামলায় নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশীকেও যুক্ত করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ পদে নিয়োগের পদ্ধতি নিয়ে ভারতে বেশ কিছুদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। এর মধ্যেই দোলা সেনের এই পদক্ষেপে বিষয়টি আবার সামনে এসেছে।
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ২০২৩ সালের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগসংক্রান্ত আইন। এই আইন অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটিতে থাকেন প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা এবং প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
এই ব্যবস্থা নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে বিরোধী দলগুলো।
তাদের অভিযোগ, বাছাই কমিটিতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রভাব বেশি। ২০২৪ সালের মার্চে সুপ্রিম কোর্ট অবশ্য আইনটির কার্যকারিতা স্থগিত করতে রাজি হননি।
জ্ঞানেশ কুমার ও অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের নিয়োগ নিয়ে এর আগেও সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছে।
গত ৮ অক্টোবর সুরি পায়ালা নামে এক ব্যক্তি তাদের নিয়োগ চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করেন। তার অভিযোগ, ২০২৩ সালের আইনে নির্ধারিত প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। ওই আবেদনে বলা হয়েছে, দুটি নির্বাচন কমিশনারের শূন্য পদের জন্য অনুসন্ধান কমিটির ১০ জনের নাম দেওয়ার কথা থাকলেও ছয়জনের নাম দেওয়া হয়েছিল।
জ্ঞানেশ কুমার ও সুখবীর সিং সান্ধুকে ২০২৪ সালের মার্চে নির্বাচন কমিশনার করা হয়। পরে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জ্ঞানেশ কুমার প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং বিবেক যোশী নির্বাচন কমিশনার হন। এর পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে কমিশনের অন্তত ১৪টি সিদ্ধান্ত অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের সম্মতি ছাড়া নেওয়া হয়েছিল—এমন অভিযোগে করা পৃথক আবেদনে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের জবাব চেয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। জ্ঞানেশ কুমার, সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশীকেও জবাব দিতে বলা হয়েছে।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়েও বিরোধীদের আপত্তি রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দোলা সেনের নতুন আবেদন নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে চলমান আইনি বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।




