এবার পশ্চিমবঙ্গে হামলার শিকার কল্যাণ, থানার সামনে তৃণমূলের বিক্ষোভ

ছবি: আগামীর সময়
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদ ঘিরে রবিবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল হুগলির চণ্ডীতলা। প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় হামলার মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলায় তার মাথায় আঘাত লাগে, প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় তাকে।
তৃণমূল সূত্রের দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার প্রতিবাদে চণ্ডীতলা থানায় স্মারকলিপি জমা দিতে যাচ্ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদল। সেই সময় একদল বিক্ষোভকারী কালো পতাকা দেখিয়ে তাঁদের পথ আটকায়। দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। অভিযোগ, সাংসদকে লক্ষ্য করে স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি ইট-পাটকেল ও ঢিল ছোড়া হয়। একটি ঢিল তার মাথায় এসে লাগলে মাটিতে পড়ে যান তিনি।
সাংসদের নিরাপত্তায় থাকা তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা দ্রুত তাঁকে ঘিরে ফেলেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে কিছুটা সুস্থ বোধ করলে তিনি চণ্ডীতলা থানার সামনে অবস্থান বিক্ষোভে যোগ দেন।
ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, হামলার সময় পুলিশ যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি জানতে চান, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কেন তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পুলিশের সঙ্গে কথোপকথনের সময় সাংসদ দাবি করেন, তাঁর উপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে এবং বিষয়টিকে হালকাভাবে দেখা উচিত নয়।
যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জমা পড়লে আইন অনুযায়ী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এই আশ্বাসে সন্তুষ্ট না হয়ে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা থানার সামনে বিক্ষোভ চালিয়ে যান। ফলে রবিবার দুপুরে চণ্ডীতলা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, শনিবার সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তৃণমূলের প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। হুগলি, পশ্চিম বর্ধমান-সহ একাধিক জেলায় মিছিল, অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, বিজেপির মদতেই এই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটছে। রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরপর দুই তৃণমূল সাংসদের উপর হামলার অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে।






