আবার আন্দোলনের ইঙ্গিত ককরোচের
শিগগিরই যন্তর মন্তরে ‘সিজন টু’

সংগৃহীত ছবি
আবার আন্দোলনের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিলেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। দিল্লির নারায়ণায় (কমিউনিটি সেন্টার) বুধবার দলের স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে বৈঠকের কথা ছিল তার। কিন্তু হল ভাড়া না পাওয়ায় দিনশেষে তা বাতিল করতে হয় সিজেপির। পরে সেখানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন অভিজিৎ।
তিনি জানিয়েছেন, ‘শিগগিরই শুরু হবে যন্তর মন্তর প্রোটেস্টের সিজন টু’। নতুন এই হুঁশিয়ারির পর ফের ছাত্র-যুবদের আন্দোলন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে যন্তর মন্তরে।
অভিজিৎ আরও বলেছেন, অনেকে জানতে চাইছিলেন, যন্তর মন্তরের ‘সিজন ২’ কবে শুরু হবে। তাদের উদ্দেশে তার জবাব, ‘শিগগিরই শুরু হতে চলেছে।’ এর আগে শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন অনিয়ম, নিটসহ পরীক্ষায় দুর্নীতি নিয়ে সিজেপির নেতৃত্বে যন্তর মন্তরে দীর্ঘ আন্দোলন হয়েছিল। সেই আন্দোলনে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও উঠেছিল এবং শেষ পর্যন্ত চাপে পড়ে পদত্যাগও (২৫ জুলাই) করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।
এদিন হল ভাড়া নেওয়া নিয়েও অভিযোগ তোলেন অভিজিৎ। তার দাবি, বহু জায়গায় খোঁজ করেও হল পাওয়া যাচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত একটি হল পাওয়া গেলেও বৈঠকের দিন সকালে হল মালিকদের হুমকি দেওয়া হয়। সিজেপির বৈঠক করতে দিলে হল মালিককে ‘উল্টো করে ঝুলিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়েছিল’ বলেও যোগ করেন। ঘটনার নেপথ্য নায়ক হিসেবে ক্ষমতাসীন বিজেপিকেই দায়ী করেছেন তিনি। অভিজিতের বক্তব্য, ‘এ ধরনের চাপ দিয়ে তাদের আন্দোলন থামানো যাবে না। যুবসমাজের আন্দোলনকে ভয় পেয়েই এ ধরনের বাধা তৈরি করা হচ্ছে।’
এর আগে জুনে যন্তর মন্তরে সিজেপির আন্দোলনে পরীক্ষার অনিয়ম ও নিট নিয়ে ছাত্রদের দাবি সামনে আনা হয়েছিল। জুলাইয়েও আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি ব্যবস্থার অভিযোগ তুলে অভিজিৎ প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন এবং ছাত্রদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছিলেন। ফলে গতকাল বুধবারের ‘সিজন ২’ ঘোষণাকে শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচির ঘোষণা হিসেবে নয়, ছাত্র-যুবদের পরীক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চলতে থাকা অসন্তোষের নতুন পর্বের ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
গত সোমবার ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতেও নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচিতে জড়ো হওয়া হাজার হাজার পরীক্ষার্থীর ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে পুলিশ। ৯ দিন অনশনে থাকা ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহাতোও অ্যাম্বুলেন্সে করে ওই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন। পরে পুলিশি লাঠিচার্জে আহত হওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি বুকে ব্যথা অনুভব করায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। তড়িঘড়ি তাকে ভর্তি করা হয় রাঁচি সদর হাসপাতালে। এ ঘটনার প্রতিবাদে অভিজিৎ দীপকে গভীর রাতে ভিডিও কলে মাহাতোকে সাহস জুগিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যন্তর মন্তর হোক কিংবা ঝাড়খণ্ড শিক্ষার্থীদের ওপর এ ধরনের পুলিশি বলপ্রয়োগ নিষ্ঠুর ও অমানবিক। দেবেন্দ্রর আন্দোলনের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে অভিজৎ তাকে ‘প্রকৃত বীর’ বলে উল্লেখ করেন এবং তার সাহস ও লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়েছেন।




