গৃহকর্মী থেকে পশ্চিমবঙ্গের বিধায়ক হলেন কলিতা মাজি

সংগৃহীত ছবি
গৃহকর্মীর কাজ করে মাসে মাত্র আড়াই হাজার টাকা আয়—সেখান থেকেই জীবনের কঠিন লড়াই শুরু করেছিলেন কলিতা মাজি। অল্প উপার্জনে সংসার চালানোই ছিল প্রতিদিনের চ্যালেঞ্জ। সেই সাধারণ জীবন থেকে উঠে এসে আজ তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নবনির্বাচিত সদস্য। আউশগ্রাম কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়ে বিপুল ভোটে জিতে তিনি যেন নিজের জীবনের এক অসাধারণ মোড় ঘুরিয়েছেন।
এক সাধারণ নারী থেকে বিধায়ক হওয়া কলিতা মাজির এই যাত্রা রাজনীতিতে এক অনুপ্রেরণামূলক স্বপ্নপূরণের গল্প, যেখানে পরিশ্রম আর দৃঢ়তা শেষ পর্যন্ত দেখিয়েছে সাফল্যের পথ।
গুষকাড়া পৌরসভার বাসিন্দা কলিতা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করতেন স্থানীয় চারটি বাড়িতে। সংসারের দায়ে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করলেও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তাগিদই তাকে রাজনীতির ময়দানে নিয়ে আসে। ২০২১ সালে তিনি তৃণমূলের প্রার্থী অভেদানন্দ থান্ডারের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, কিন্তু প্রায় ১১ হাজার ৮১৫ ভোটে পরাজিত হন।
তবুও তিনি পিছিয়ে যাননি। নিজেকে যুক্ত রেখেছেন মানবিক কাজে, মানুষের সঙ্গে আরও গভীর করেছেন সম্পর্ক। সেই আস্থা থেকেই এবার আবার তাকে প্রার্থী করে বিজেপি, আর জয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ পরিশ্রমের স্বীকৃতি মিলেছে। এবার আউশগ্রাম কেন্দ্রে কলিতা মাজি পেয়েছেন ১ লাখ ৭ হাজার ৬৯২ ভোট। তৃণমূল প্রার্থী শ্যাম প্রসন্ন লোহারকে ১২ হাজার ৫৩৫ ভোটে হারিয়ে জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
এদিকে রাজ্যের সামগ্রিক ফলাফলেও বড় পরিবর্তন এসেছে। ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৬টি জিতে বিজেপি অর্জন করেছে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা, যার ফলে ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটেছে। ১৯৭২ সালের পর এই প্রথম কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের সরকার গঠিত হতে চলেছে, যা জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
এই বৃহৎ রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যেও কলিতা মাজির গল্প আলাদা করে দৃষ্টি কাড়ছে। যিনি একসময় অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাতেন, আজ তিনিই বিধানসভায় নিজের এলাকার প্রতিনিধিত্ব করবেন।



