নওগাঁয় উজানের ঢলে তলিয়ে যাচ্ছে বোরো ধান, ফসল রক্ষায় লড়ছেন কৃষকরা

ছবি: আগামীর সময়
উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে নওগাঁর পোরশা ও সাপাহার উপজেলার সাত হেক্টর জমির বোরো ধান পুরোপুরি তলিয়ে গেছে। এছাড়া জেলার বিভিন্ন বিল ও নদী তীরবর্তী নিচু এলাকার আরও অন্তত ৩০ হাজার হেক্টর জমির পাকা ধান নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন চাষিরা।
রবিবার সন্ধ্যা থেকে সোমবার সকালের মধ্যেই পোরশার নিতপুর এলাকায় পুনর্ভবা নদী ও জবই বিলের পানি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় পাঁচ হেক্টর জমি সম্পূর্ণ এবং ৩০ হেক্টর জমি আংশিক নিমজ্জিত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ফসল রক্ষায় আত্রাইসহ বিভিন্ন উপজেলায় নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজ চালাচ্ছেন কৃষকরা। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ৮০ শতাংশ ধান পাকলেই তা দ্রুত কেটে ঘরে তুলতে হবে।
স্থানীয় চাষি আউয়াল হোসেন জানান, নীতপুর এলাকার বিলে অন্তত ১০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। চোখের সামনে কষ্টের ফসল তলিয়ে যেতে দেখে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে কোমর সমান পানিতে নেমে আধাপাকা ধান কাটার চেষ্টা করছেন। অনেকে আবার ফসল পুরোপুরি হারানোর শঙ্কায় বাড়তি মজুরি দিয়ে দ্রুত ধান ঘরে তুলছেন।
নিতপুর বাঙাল পাড়ার বেলাল হোসেন আক্ষেপ করে বললেন, সাধারণত জ্যৈষ্ঠ মাসের শুরুতে পুনর্ভবা নদীতে পানি আসে, যার আগেই ধান কাটা শেষ হয়। কিন্তু এবার বৈশাখের শুরুতেই আগাম পানি চলে আসায় ঋণ নিয়ে চাষ করা কৃষকরা সব হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন।
এদিকে আত্রাই ও ছোট যমুনা নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় মান্দা, রাণীনগর ও সদর উপজেলার নিচু মাঠগুলোতেও পানি ঢুকতে শুরু করেছে। বিশেষ করে রক্তদহ বিলের পানি বাড়ায় জামগ্রাম খাল দিয়ে প্রবল বেগে পানি ঢুকছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সোনাইডাঙ্গা এলাকায় মাইকিং করে কৃষকরা দলবদ্ধভাবে কাঠ, বাঁশ ও বালুর বস্তা দিয়ে খালের মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করছেন। কৃষক মজিবুল হক বলেন, মাঠ ভরা সোনালি ধান বাঁচাতে তারা দিনরাত বাঁধ রক্ষার কাজ করে যাচ্ছেন।
আত্রাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রসেনজিত তালুকদারের ভাষ্য, নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ফসলের ওপর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি পানি প্রবেশ রোধে সবগুলো স্লুইসগেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় দুই লাখ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে যার মধ্যে প্রায় ১৫ শতাংশ ধান ইতোমধ্যে কাটা শেষ হয়েছে। জেলার ৩০ হাজার হেক্টরের বেশি জমি নিচু এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এসব জমির ধান আগেভাগে কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ধান কাটা ও সরকারি সংগ্রহের বিষয়ে জেলা সার বীজ মনিটরিং কমিটি ও শস্য ক্রয় কমিটির প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন হয়েছে। কৃষকরা যাতে নির্বিঘ্নে ফসল ঘরে তুলতে পারেন সে লক্ষে কৃষি বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সার্বক্ষণিক নজরদারির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।



