পশ্চিমবঙ্গে ফল ঘোষণার পর লুটপাট
বাংলাদেশি তকমা, বিজিপির ক্রোধে ওসমান পরিবার

প্রতীকী ছবি
১০ বছর আগের কথা। ছিটমহল বিনিময় নীতিতে ভারতবাসী হয়ে যান বাংলাদেশের ওসমান গণি। চিরস্থায়ী হয়ে যান কুড়িগ্রামঘেঁষা পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার দিনহাটা মহকুমার মশালডাঙ্গা গ্রামে। বছর পাঁচেক ভারত সরকারের পুনর্বাসন প্রকল্পের আশ্রয়ে থাকার পর পেয়ে যান স্থায়ী নাগরিকত্ব। পেছনের শিকড় ছেড়ে সেই থেকেই সপরিবারে সেখানেই বসতি গড়ে তোলেন মো. ওসমান। ভালো-মন্দ মিলিয়ে বেশ কাটছিল দিন। হঠাৎ কাল হয়ে দাঁড়াল রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফল। গেরুয়া ঝড়ে উড়ে গেল মমতার গদি। কপাল ভাঙে ওসমানেরও। ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে শুরু হয় বিজেপির হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসন। লুটতরাজ চালায় ওসমানের বাড়িতে। সহায়-সম্বল হারিয়ে এখন রীতিমতো দিশাহারা সীমান্তের এই অসহায় মুসলিম পরিবার।
সোমবার ফল প্রকাশের পরপরই ওসমান গণির বাড়িতে হানা দেয় স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা। ভাঙচুর করে দুটি মোটরসাইকেল ও একটি প্রাইভেটকার। এসব তথ্য প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বাসিন্দা মো. মহির উদ্দিন। তিনি ভারতে বসবাসরত ওসমান গণির বাবা। তার দাবি, এ হামলা করেছে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সমর্থকরা। ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বাড়িঘরে হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন ওসমান গণি নিজেই। প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে সেই ভিডিও বার্তা।
ছিটমহল ভাগের সময় ২০১৫ সালে ভারতকে বেছে নিয়েছিলেন ওসমান গণি। সে বছরের ২২ নভেম্বর সপরিবারে ভারত যান তারা। ভারত সরকার প্রথমে তাদের দিনহাটা কৃষিমেলায় পাঁচ বছর পুনর্বাসিত করে রাখে। এরপর দিনহাটার হিমগড় স্থানে ফ্ল্যাট তৈরি করে দেয় সরকার। পরে নিজস্ব অর্থায়নে নাজিরহাট এলাকার মশালডাঙ্গা গ্রামে জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করেন ওসমান।
গালাগাল করে বলে আমরা বাংলাদেশ থেকে এসেছি। বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা হয়। আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দিল। বাড়ি ভাঙচুর করল।
হামলার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওই ভিডিও বার্তায় ওসমান গণি জানালেন, ‘আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা ২০১৫ সালে ভারত এসে বসতি গড়ে তুলি। আমরা কোনো রাজনীতি করি না, দল করি না। আমি এখানে ব্যবসা-বাণিজ্য করে চলি। গতকাল ৪ তারিখ বিকালে ভোটের ফল প্রকাশ হওয়ার পর কিছু মানুষ আমাদের বাড়িতে আসে। গালাগাল করে বলে, আমরা বাংলাদেশ থেকে এসেছি। বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা হয়। আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দিল। বাড়ি ভাঙচুর করল। লুট করে নিয়ে গেল বাড়িতে থাকা সব স্বর্ণালংকার। আমার প্রাইভেটকারসহ দুটি মোটরসাইকেলও ভাঙল। বাড়িতে এখন খাওয়ার মতো কিছু নেই। থাকার মতো কোনো পরিবেশ নেই। এই পরিস্থিতে আমি কোথায় যাব? তার দাবি, দুই দেশের হাইকমিশন যে বিষয়টি দ্রুত সমাধান করেছে। আগে তার পরিবারে তিনজন ভারতীয় ভোটার ছিলেন। সম্প্রতি দুজনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে তালিকা থেকে। ৫ মে বিকাল ৪টার দিকে ছেলের সঙ্গে কথা বলেন মহির উদ্দিন। ছেলের মতোই হামলার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানালেন, ‘আমি এর বিচার চাই।’



