ভারত ও চীনে বিশ্বকাপ সম্প্রচার অনিশ্চিত, শঙ্কায় বাংলাদেশও

সংগৃহীত ছবি
কাতার বিশ্বকাপে ৬ কোটি ডলারে টিভি স্বত্বাধিকার কিনেছিল ভারতীয় কোম্পানি রিলায়েন্স। ধারণা করা হচ্ছিল, যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য ৪৮ দলের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপের টিভিস্বত্ব চড়া দামে কিনবে ভারত। তবে বিশ্বকাপের অল্প কিছুদিন বাকি থাকলেও দেশটির দর্শকরা এখনো নিশ্চিত নন, কীভাবে দেখা যাবে মেসি-রোনালদোদের খেলা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া বিবৃতিতে ফিফা জানিয়েছে, এ পর্যন্ত বিশ্বের ১৭৫টির বেশি অঞ্চলে বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তবে বড় কিছু অঞ্চল এখনো বাকি। ২০২৬ ও ২০৩০ বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্বের জন্য ভারতের কাছে শুরুতে ১০ কোটি ডলার দাবি করেছিল ফিফা। তবে নানা কারণে ফিফার এই প্রস্তাবে রাজি হয়নি ভারত। বিশ্বকাপ দুয়ারে কড়া নাড়লেও তাই এখনো অনিশ্চিত দুই পক্ষের চুক্তি।
ভারতীয় প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্সের দাবি, এবারের বিশ্বকাপে প্রায় সব ম্যাচ হবে মধ্যরাতে। রাত জেগে ম্যাচ দেখতে ভারতীয় ফুটবল ভক্তরা খুব বেশি আগ্রহী হবে না বলে দাবি তাদের।শেষ পর্যন্ত ফিফাকে ২ কোটি ডলারের প্রস্তাব দিয়েছিল রিলায়েন্স। সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি ফিফা। তাই ঝুলে গেছে ভারতে ২০২৬ বিশ্বকাপ সম্প্রচার।
২০২৬ বিশ্বকাপের ম্যাচ মধ্যরাতে হলেও ২০৩০ বিশ্বকাপে সেরকম কিছু হবে না। ইউরোপে হতে যাওয়া ২০৩০ বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো সুবিধাজনক সময়েই উপভোগ করতে পারবেন ভারতের দর্শক। তবুও কেন সম্প্রচার স্বত্ব কিনতে এত অনাগ্রহ, সেটাই অবাক করছে ফিফাকে।
এদিকে শুধু ভারত নয়, সম্প্রচার স্বত্ব কেনেনি চীনও। ফিফা জানিয়েছে, ২০২২ বিশ্বকাপ চলাকালে বিশ্ব জুড়ে ডিজিটাল ও সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে মোট যত সময় খেলা দেখা হয়েছে, তার ৪৯.৮ শতাংশই দেখেছেন চীনের দর্শক। ২০২২ বিশ্বকাপে বিশ্ব জুড়ে সরাসরি টেলিভিশন সম্প্রচার দেখা দর্শকদের ১৭.৭ শতাংশই ছিল চীনের। ভারতের ক্ষেত্রে এই হার ২.৯ শতাংশ। এ ছাড়া সেবার বিশ্বকাপের মোট ডিজিটাল স্ট্রিমিংয়ের ২২.৬ শতাংশই ছিল এ দুই দেশের দখলে।
সূত্র বলছে, ভারতের সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান 'সনি' তাদের টিভি চ্যানেল বা স্ট্রিমিং অ্যাপের জন্য ফিফার কাছ থেকে বিশ্বকাপের স্বত্ব না কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই বিনিয়োগ তাদের কাছে ব্যবসায়িকভাবে লাভজনক মনে হয়নি।বিজ্ঞাপনী সংস্থা ‘ডেন্টসু ইন্ডিয়া’র ক্রীড়া বিভাগের ম্যানেজিং পার্টনার রোহিত পোতফোরে জানিয়েছেন, ‘সময় খুব বেশি নেই, তবে আমি একে অচল অবস্থা বলব না। পরিস্থিতি এখন দাবার লড়াইয়ে একদম শেষ মুহূর্তের মতো, যেখানে মাত্র কয়েক চাল বাকি আছে।’
শেষ পর্যন্ত ভারত যদি সম্প্রচার স্বত্ব না কেনে, বিপাকে পড়বে বাংলাদেশও। কারণ ভারত থেকেই সম্প্রচার স্বত্ব কেনে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত কি তাহলে ভারত, চীন ও বাংলাদেশের দর্শকরা টিভির পর্দায় বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতে পারবেন না?


