শাহজাদপুর
দুর্নীতির মামলায় কারাগারে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা

ছবি: আগামীর সময়
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ সোমবার পাবনার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে হাজির করা হলে বিচারক মো. আখতারুজ্জামান তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
দুদক পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানালেন, রবিবার রাতে দুদকের একটি দল আবুল কালাম আজাদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে তাকে। পরে পাবনা সদর থানা হেফাজতে রাখা হয় এবং সোমবার দুপুরে তোলা হয় আদালতে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। পরে ২০২৪ সালের ৮ মে তাকে, তার স্ত্রী মর্জিনা খাতুন এবং ছেলে ফজলে রাব্বি রিয়নের কাছে সম্পদের হিসাব দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। তারা ৩ জুলাই জমা দেন সম্পদের বিবরণী।
এরপর ২০২৫ সালের ১১ মার্চ দুদকের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধর বাদী হয়ে আবুল কালাম আজাদ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করেন। মামলায় আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৩২ লাখ ৪৬ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়, যা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
তার স্ত্রী মর্জিনা খাতুনের বিরুদ্ধে রয়েছে স্বামীর অবৈধ আয় থেকে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৮৩ হাজার ৪৮৩ টাকার সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলের অভিযোগ। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দুদক আইনে অভিযোগ আনা হয়। ছেলে ফজলে রাব্বি রিয়নের বিরুদ্ধেও ১ কোটি ১৫ লাখ ৩৬ হাজার ৯৪১ টাকার অবৈধ সম্পদ ভোগদখলের অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, আবুল কালাম আজাদের শ্যালক জামাল উদ্দিন ফকিরের নামেও অস্বাভাবিক সম্পদের তথ্য পায় দুদক। তাকে ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার নোটিশ দেওয়া হয়। তিনি ৮ ডিসেম্বর ৩২ লাখ ৪৬ হাজার টাকার স্থাবর ও ১ কোটি ৩৩ লাখ ১১ হাজার ১৮২ টাকার অস্থাবর সম্পদের হিসাব জমা দেন।
তবে অনুসন্ধানে দুদক তার নামে ৩২ লাখ ৪৬ হাজার টাকার স্থাবর এবং ১ কোটি ৫৯ লাখ ৪০ হাজার ১৮২ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পায়। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর আরেকটি মামলা করা হয়, যেখানে জামাল উদ্দিন ফকিরকে প্রধান এবং আবুল কালাম আজাদকে করা হয় দ্বিতীয় আসামি।



