নেপালের হড়পা বানে নিখোঁজ পশ্চিমবাংলার ৩৬ পুণ্যার্থীও
- বৃহস্পতিবারও ভারত থেকে একটি সামরিক পরিবহণ বিমানে আরও ৩৭.৫ টন ত্রাণসামগ্রী, ওষুধ ও খাবার পাঠানো হয়েছে নেপালে

বৃহস্পতিবারের সর্বশেষ হিসাবে, নেপালে অন্তত ১৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
কৈলাস মানস সরোবর দর্শনের পথে বেরিয়েছিলেন বাংলার ৩৬ জন পুণ্যার্থী। নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ হড়পা বান ও ধসের পর তাদের কারও সঙ্গেই আর যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন দুর্গাপুরের অন্তত দুই দম্পতিও। বুধবার, ২৬ আগস্ট সকালে রাসুয়া জেলার তিমুর ও রসুয়াগঢ়ি সীমান্ত এলাকায় বিপর্যয় শুরু হওয়ার পর থেকেই উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে তাদের পরিবারগুলির।
নিখোঁজ ৩৬ জনের মধ্যে ৩০ জন কলকাতার এবং ছয়জন বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। তাদেরই মধ্যে বামুনারার তপোবন সিটির বাসিন্দা অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায় ও তার স্ত্রী মৌসুমী গঙ্গোপাধ্যায় রয়েছেন। চলতি মাসের ২১ তারিখ একটি পর্যটন সংস্থার সঙ্গে তারা নেপাল হয়ে মানস সরোবরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। মঙ্গলবার রাত ১১টা নাগাদ পরিবারের সঙ্গে তাদের শেষ কথা হয়। বুধবার সকালে নেপাল-তিব্বত সীমান্ত পার হওয়ার কথা ছিল। তারপর থেকেই ফোনে আর যোগাযোগ মেলেনি। খবর পেয়ে বুধবার রাতেই তাদের বাড়িতে যায় পুলিশ।
তবে শুধু এই দম্পতিই নন, দুর্গাপুরের অম্বুজা টাউনশিপের দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার স্ত্রী সংঘমিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও খোঁজ মিলছে না। শ্রীনগর পল্লির বাসিন্দা সুভাষচন্দ্র ঘোষের সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
বুধবার সকালে আচমকাই ভোটেকোশী নদীর জল ভয়াবহ ভাবে বাড়তে শুরু করে। নেপাল-তিব্বত সীমান্তের লেন্দে নদীতে হিমবাহের বরফ ও পাথরের বিশাল স্তূপ ধসে নদীর প্রবাহ আটকে যাওয়ার পর সেই বাধা ভেঙে বিপুল জল ও কাদার স্রোত নেমে আসে বলে এখন মনে করছেন তদন্তকারীরা। কয়েক মিনিটের মধ্যে ভেসে যায় রাস্তা, সেতু, বাড়ি, গাড়ি এবং সীমান্ত এলাকার পরিকাঠামো।
া নিখোঁজ ৮২৬ জন। তাদের মধ্যে ৪০০-র বেশি বিদেশি। নেপালের বিদেশমন্ত্রী শশীর খানাল জানিয়েছেন, সব মিলিয়ে ৩০০-র বেশি ভারতীয়ের খোঁজ মিলছে না। যদিও বিভিন্ন পর্যটন সংস্থার প্রাথমিক তালিকা এখনও যাচাই করা হচ্ছে।
বাংলার নিখোঁজ পুণ্যার্থীদের খোঁজে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নেপালের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছে। কাঠমান্ডুর ভারতীয় দূতাবাস জরুরি হেল্পলাইন চালু করেছে—+৯৭৭ ৯৮৫ ১৩১ ৬৮০৭, +৯৭৭ ৯৭০ ৯১০ ৭৫০০ এবং +৯৭৭ ৯৮১ ০৩২ ৬১১৭। এই নম্বরগুলিতে ফোনের পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বুধবার নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, কঠিন এই সময়ে ভারত নেপালের পাশে রয়েছে এবং উদ্ধার ও ত্রাণকাজে সম্ভব সব ধরনের মানবিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত। ভারতীয় দলগুলি নেপালি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
এরই মধ্যে ভারত নেপালে ত্রাণ পাঠানো শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার একটি সামরিক পরিবহণ বিমানে আরও ৩৭.৫ টন ত্রাণসামগ্রী, ওষুধ ও খাবার পাঠানো হয়েছে। এর আগে ১০ টন ত্রাণ পাঠানো হয়েছিল। সেই ত্রাণে তাঁবু, কম্বল, স্বাস্থ্যবিধির সামগ্রী ও সৌর আলোও রয়েছে।
নেপালের সেনা ও পুলিশ মিলিয়ে ৫,০০০-এর বেশি কর্মী উদ্ধার অভিযানে নেমেছেন। বৃহস্পতিবার হেলিকপ্টারে দুর্গম এলাকায় পৌঁছে ১২৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ২০ জন বিদেশি। কিন্তু ধসে যাওয়া রাস্তা, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ এবং কাদায় ঢাকা বিস্তীর্ণ এলাকা উদ্ধারকাজকে কঠিন করে তুলেছে। আর সেই কারণেই ৩৬ বাঙালি পুণ্যার্থীর পরিবারের অপেক্ষাও ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে।







