পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে উপনির্বাচন, ভোট শুরুর পরই উত্তেজনা

নন্দীগ্রামে বুথ পরিদর্শনের পর কথা বলছেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। ছবি: সংগৃহীত
পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে মঙ্গলবার উপনির্বাচনের ভোট শুরু হয়েছে। সকাল থেকেই দুই কেন্দ্রেই উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। রেজিনগরে পুলিশের সঙ্গে তর্কের পর আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে, নন্দীগ্রামে বুথ পরিদর্শনে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান।
সকাল ৯টা পর্যন্ত নন্দীগ্রামে ২০ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং রেজিনগরে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে। সকাল ৭টায় ভোট শুরু হয়েছে। চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। আগামী ৯ অক্টোবর ফল ঘোষণা করা হবে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর এটিই পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা। ভোটকে কেন্দ্র করে দুই আসনেই কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে নির্বাচন কমিশন। নন্দীগ্রামে ৩৭ কোম্পানি এবং রেজিনগরে ৩৪ কোম্পানি মিলিয়ে মোট ৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি নন্দীগ্রামে ৭০০ এবং রেজিনগরে ৮১৯ জন রাজ্য পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিটি বুথে ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
ভোট শুরুর পর রেজিনগরে উত্তেজনা ছড়ায়। পরিবারের সঙ্গে ভোট দেওয়ার পর হুমায়ুন কবীর অভিযোগ করেন, তার বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং তার দলের এজেন্টদের বুথে ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
পরে রেজিনগরে দলের কার্যালয়ে পুলিশ গেলে হুমায়ুনের সঙ্গে তাদের তর্কবিতর্ক হয়। তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাকে গ্রেপ্তারের কথা জানানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ভোটের পরিবেশে হস্তক্ষেপের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হুমায়ুনের অভিযোগ, প্রশাসন তার দল ও কর্মীদের ওপর চাপ তৈরি করছে।
নন্দীগ্রামেও ভোট শুরুর পর উত্তেজনা দেখা দেয়। সোনাচূড়া ও জালপাই এলাকায় বুথ পরিদর্শনে গেলে বিক্ষোভের মুখে পড়েন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। তাকে ঘিরে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মিলন অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন জায়গায় তার দলের এজেন্টদের বুথে বসতে দেওয়া হচ্ছে না এবং ভয় দেখানো হচ্ছে।
নন্দীগ্রামে বিজেপির হাসিরানি রথ, কংগ্রেসের মিলন প্রধান ও বামেদের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রেজিনগরে বিজেপি, তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস, সিপিএম ও হুমায়ুন কবীরের দলসহ একাধিক পক্ষের প্রার্থী রয়েছেন।
দুই আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা বহুমুখী হওয়ায় ভোটের সমীকরণ জটিল। উপনির্বাচনের ফল শুধু দুই আসনের বিধায়ক নির্ধারণ করবে না, পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেবে।




