দিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ বৈঠক শুরু

সংগৃহীত ছবি
ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তে সাম্প্রতিক উত্তেজনার আবহে নয়াদিল্লিতে আজ থেকে শুরু হলো বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ৫৭তম মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক। ৮ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত চলা এই চার দিনের সম্মেলনে সীমান্ত হত্যা, পুশব্যাক, অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র পাচার, চোরাচালান এবং সীমান্ত নিরাপত্তাসংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা চলবে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে সীমান্ত হত্যা ও পুশইনের অভিযোগ। বিজিবির দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় নারী ও শিশুসহ একাধিক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। বিজিবি জানিয়েছে, এসব ঘটনার বিরুদ্ধে তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই নাগরিক ফেরানোর প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে সীমান্তে একাধিক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে ভারতও নিজেদের উদ্বেগের বিষয়গুলো বৈঠকে তুলছে। ভারতীয় পক্ষের বক্তব্য, অবৈধ অনুপ্রবেশ, সীমান্তে বেড়া নির্মাণে বাধা, চোরাচালান এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনাগুলো উদ্বেগজনক। ভারতের দাবি, যেসব ব্যক্তিকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে, তাদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয় এবং তারা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী।
ভারতের বিএসএফ মহাপরিচালক প্রবীণ কুমারের নেতৃত্বে ভারতীয় প্রতিনিধিদল এবং বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল এই বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। দুদেশের স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র এবং সীমান্ত-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরাও আলোচনায় যুক্ত রয়েছেন। দুদেশের মধ্যে আস্থা বাড়ানো এবং সীমান্তে উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে দিল্লির এই বৈঠকের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।




