বেড়েছে ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার

ছবি: রয়টার্স
ভারতের আনুমানিক পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার ১৮০ থেকে বেড়ে ১৯০ ওয়ারহেডে পৌঁছেছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপরি) সর্বশেষ মূল্যায়নে উঠে এসেছে এমন তথ্য। দ্রুত পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে নিজেদের কৌশলগত প্রতিরোধ সক্ষমতা আধুনিকায়নের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই বৃদ্ধি ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সিপরি ইয়ারবুক ২০২৬–এ প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, বিশ্ব এখন নতুন এক পারমাণবিক প্রতিযোগিতার যুগে প্রবেশ করছে। বড় শক্তিগুলো ক্রমেই পারমাণবিক অস্ত্রকে জাতীয় শক্তির হাতিয়ার হিসেবে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
সিপরির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বের ৯টি পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, ভারত, পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া ও ইসরায়েল—তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্নায়ুযুদ্ধ–পরবর্তী সময়ে যেভাবে বৈশ্বিক পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার কমছিল, সেই গতি এখন আর নেই। নিরস্ত্রীকরণ কার্যক্রম ধীর হয়ে আসা এবং নতুন অস্ত্র মোতায়েন বাড়তে থাকায় ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা আবারও বাড়তে পারে।
ভারতের ক্ষেত্রে আগের হিসাবের তুলনায় ১০টি অতিরিক্ত ওয়ারহেড যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, সমুদ্রভিত্তিক প্রতিরোধ সক্ষমতা এবং এমআইআরভি প্রযুক্তির উন্নয়নও চলছে।
সিপরি বলেছে, ভারত ‘২০২৫ সালেও তাদের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার সামান্য বাড়িয়েছে এবং নতুন ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র বহনকারী ব্যবস্থা উন্নয়নের কাজ চালিয়ে গেছে।’
এশিয়ায় বাড়তে থাকা উত্তেজনা, চীনের সঙ্গে কৌশলগত প্রতিযোগিতা এবং পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বৈরিতার প্রেক্ষাপটে ঘটছে এই সম্প্রসারণ।
সিপরির মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ভারতের পারমাণবিক আধুনিকায়ন কর্মসূচি ক্রমেই চীনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদারের দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, যদিও প্রস্তুতি বজায় রাখা হচ্ছে পাকিস্তানকে ঘিরেও।




