আইন মানছে না সোশ্যাল মিডিয়া

সংগৃহীত ছবি
সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ন্যূনতম বয়সসীমা-সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের দায়ে গত শনিবার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সর্বোচ্চ জরিমানার পরিমাণ দ্বিগুণ করার ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই জরিমানা বাড়িয়ে ৯ কোটি ৯০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার করা হয়েছে। আপডেট করা এই আইনের আওতায় দেশটির নিয়ন্ত্রক সংস্থা ই-সেফটি কমিশনার এখন থেকে সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোকে নিষেধাজ্ঞা মানার ক্ষেত্রে তাদের নেওয়া পদক্ষেপের প্রমাণ দিতে বাধ্য করতে পারবে।
এর আগে, গত বছরের ১০ ডিসেম্বর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য প্রধান ১০টি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে আইনটি কার্যকরের পরও অনেক শিশু এখনো নিষিদ্ধ অ্যাপগুলো ব্যবহার করতে পারছে। এর মধ্যে আইন অমান্যের অভিযোগে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক, ইউটিউবসহ পাঁচটি নিষিদ্ধ প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।
গত বছরের শেষের দিকে বেশ আলোচনার মধ্যে অস্ট্রেলিয়া এই নিষেধাজ্ঞা চালু করলেও এটি কার্যকর করা সরকারের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সিডনির একটি স্কুলে বিবিসির অনুসন্ধানে দেখা যায়, নিষেধাজ্ঞার আগে যে শিক্ষার্থীরা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করত, তাদের বেশিরভাগই এখনো এটি ব্যবহার করতে পারছে।
এ ছাড়া স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ই-সেফটি কমিশনের নিজস্ব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার আগে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ছিল এমন ১৬ বছরের কম বয়সী প্রতি ১০ জন শিশুর মধ্যে সাতজনই এখনো কোনো না কোনোভাবে এগুলো ব্যবহার করার সুযোগ পাচ্ছে।
গত শনিবার এক বিবৃতিতে সরকার এই চ্যালেঞ্জগুলোর কথা স্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, কঠোর এই জরিমানা মূলত সেই প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, যারা আইন মানার ক্ষেত্রে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এ ছাড়া ই-সেফটি কমিশনারের ক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে আরও কার্যকর তদন্ত এবং আইন প্রয়োগ করা সম্ভব হবে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ বলেছেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় বয়সসীমা নির্ধারণের পর বিশ্বব্যাপী যে সাড়া জেগেছে, তাতে আমি উৎসাহিত। তবে এটি স্পষ্ট, প্রযুক্তি জায়ান্টরা আইন মেনে চলার জন্য যথেষ্ট কাজ করছে না। এখনো অনেক শিশু সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করছে।’ সূত্র : বিবিসি




