বিপজ্জনক ইংলিশ চ্যানেলযাত্রায় ডিঙি চালিয়ে জেলে ১৯ বছরের তরুণ
- ডুবছিল ডিঙি, ভেতরে ৩১ শিশু
- ১৬৫ জনকে নিয়ে চ্যানেল পাড়ি, তরুণের ২৭ মাসের জেল

দক্ষিণ সুদানের ১৯ বছরের আশ্রয়প্রার্থী চান মাথক আতাককে ২৭ মাসের কারাদণ্ড দেয় ব্রিটেনের আদালত
একটি বাসের প্রায় সমান লম্বা রবারের ডিঙি। তাতে গাদাগাদি করে ১৬৫ জন মানুষ৷ তাদের মধ্যে ৩১ জনই শিশু। দু’টি ইঞ্জিনের একটি বিকল, নেই নেভিগেশন যন্ত্র কিংবা প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা। প্রায় ২৪ ঘণ্টা সমুদ্রে থাকার পর নৌকায় ঢুকতে শুরু করেছে জল, কমছে বাতাসও। ইংলিশ চ্যানেলের বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত নৌপথে তখন প্রতিটি ঢেউ যেন ১৬৫টি জীবনের সঙ্গে খেলছিল। সেই নৌকার হাল ধরার দায়ে এ বার ব্রিটেনে ২ বছর ৩ মাসের কারাদণ্ড হল দক্ষিণ সুদানের ১৯ বছরের আশ্রয়প্রার্থী চান মাথক আতাকের।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ক্যান্টারবেরি ক্রাউন কোর্ট সাজা ঘোষণা করে। আতাক আগেই স্বীকার করেছিলেন, গত ২৩ জুলাই ফ্রান্স থেকে ব্রিটেনের দিকে যাত্রার সময় তিনি নৌকাটি চালিয়েছিলেন এবং তার কাজ অন্যদের মৃত্যু বা গুরুতর আহত হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলেছিল। প্রসিকিউশনের দাবি, দুই ব্যক্তি পালা করে ডিঙিটি চালান; আতাক অন্তত ৯০ মিনিট হাল ধরে ছিলেন।
নৌকাটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ১৪ মিটার। যাত্রীদের মধ্যে ৩১ জনের বয়স ১৪ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। তখন একটিমাত্র ছোট নৌকায় এত মানুষ নিয়ে চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার এটিই ছিল সর্বোচ্চ রেকর্ড; আগস্টে ২৩০ জনকে বহনকারী আরেকটি নৌকা সেই রেকর্ড ভাঙে।
আদালতে জানানো হয়, ডিঙিটিতে কার্যকর ছিল মাত্র একটি ইঞ্জিন। পর্যাপ্ত লাইফজ্যাকেট, খাবার, পানীয় জল ও ওষুধও ছিল না; ছিল না নেভিগেশন, জরুরি সংকেত বা অগ্নিনির্বাপণের সরঞ্জাম। নৌকাটি বাতাস হারাচ্ছিল এবং জল ঢুকছিল, এমন অবস্থাতেই ব্রিটিশ বর্ডার ফোর্স সেটি আটকায়।
বিচারক সারাহ কাউন্সেল বলেছেন, অপরাধের গুরুতর মাত্রার কারণে “তাৎক্ষণিক কারাদণ্ডই ন্যায্য”। সাজা শেষে বিদেশি নাগরিক হিসেবে আতাক নীতিগত ভাবে স্বয়ংক্রিয় প্রত্যাবাসনের আওতায় পড়তে পারেন বলেও তাঁকে সতর্ক করেন বিচারক।
তবে মামলায় এমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে আতাক এই যাত্রার আয়োজক ছিলেন বা এর বিনিময়ে অর্থ পেয়েছিলেন। তার আইনজীবী অড্রে মোগান বলেছেন, নৌকার অতিরিক্ত যাত্রী কিংবা নিরাপত্তা সরঞ্জামের অভাবের জন্য তাঁর মক্কেল দায়ী, এমন “একটিও প্রমাণ নেই”। তিনি জানান, আতাক দক্ষিণ সুদানের সহিংসতা থেকে পালিয়ে আশ্রয়ের সন্ধানে ইউরোপে এসেছিলেন।
ব্রিটেনে বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রায় অন্যের জীবন ঝুঁকিতে ফেলার এই পৃথক অপরাধটি কার্যকর হয় ৫ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, শুধু বিপজ্জনক নৌকায় ওঠাই অপরাধ নয়; এমন নির্দিষ্ট কাজ করতে হবে যা অন্যের মৃত্যু বা গুরুতর আঘাতের ঝুঁকি সৃষ্টি করে। আতাকের মামলাটি সেই নতুন আইনের অধীনে হওয়া ধারাবাহিক দণ্ডগুলোর একটি।



