জরিপ
ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাজ্যে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী জনমত তুঙ্গে

সংগৃহীত ছবি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধের পর যুক্তরাজ্যে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী জনমত বেড়েছে তীব্রভাবে। নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, অর্ধেকের বেশি ব্রিটিশ নাগরিক এখন যুক্তরাষ্ট্রকে দেখছেন বিশ্বে একটি নেতিবাচক শক্তি হিসেবে।
লন্ডন ডিফেন্স কনফারেন্সকে সামনে রেখে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান পাবলিক ফার্স্ট পরিচালিত জরিপে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রকে নেতিবাচকভাবে দেখছেন ৫৩ শতাংশ উত্তরদাতা। সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা শুরুর আগের তুলনায় এটি ১৯ শতাংশ পয়েন্ট বেশি।
অন্যদিকে মাত্র ২৯ শতাংশ উত্তরদাতা বলছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রকে দেখছেন ইতিবাচক শক্তি হিসেবে। গত ডিসেম্বরের তুলনায় এই হার কমেছে ১২ শতাংশ পয়েন্ট।
দুই হাজারের কিছু বেশি ব্রিটিশ প্রাপ্তবয়স্কের অংশগ্রহণে করা এই জরিপে উঠে এসেছে, আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মধ্যে যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্রকে ঘিরে জনমতে ঘটেছে বড় ধরনের পরিবর্তন।
সম্মেলনের পরিচালক ইয়ান মার্টিন বলেছেন, এই ফলাফল তৈরি করছে ‘আটলান্টিক-পারের জোটের জন্য গভীর চ্যালেঞ্জ’। লন্ডন-ওয়াশিংটনের তথাকথিত বিশেষ সম্পর্কের ওপরও পড়তে পারে এর গুরুতর প্রভাব।
জরিপে বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিয়ে জনগণের গভীর উদ্বেগও উঠে এসেছে। ৮৫ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, ক্রমেই আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে বিশ্ব। আর ৬০ শতাংশ বলেছেন, তাদের জীবদ্দশায় বর্তমান সময়টাই মনে হচ্ছে সবচেয়ে বেশি অস্থিতিশীল।
ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতিকে বড় ঝুঁকির উৎস হিসেবে দেখছেন অনেকেই। প্রায় ৬৪ শতাংশ বলেছেন, তার নীতি আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে বৃহত্তর বৈশ্বিক সংঘাতের।
ইরান যুদ্ধের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন জরিপে অংশ নেওয়া মাত্র ২৬ শতাংশ। বিপক্ষে ছিলেন ৪১ শতাংশ।
সংকট মোকাবিলায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ভূমিকা সম্পর্কেও জনমত যাচাই করা হয় জরিপে। ৪৯ শতাংশ বলেছেন, তার সামগ্রিক সম্পৃক্ততা মোটের ওপর সঠিক ছিল। তবে ৪৮ শতাংশের মত, ওয়াশিংটন সরাসরি সহায়তা চাইলে তা প্রত্যাখ্যান করা উচিত ব্রিটেনের।
তবে পরিস্থিতি বদলে যায় যখন প্রশ্ন করা হয়, এই অঞ্চলে ব্রিটিশ লক্ষ্যবস্তুতে ইরান হামলা চালালে কী হবে? সে ক্ষেত্রে ৫৯ শতাংশ বলেছেন, এমন পরিস্থিতিতে তারা সমর্থন করবেন যুক্তরাজ্যের সামরিক অংশগ্রহণকে।
হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ব্রিটিশ বাহিনী মোতায়েনের প্রশ্নে জনমত ছিল মিশ্র। আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থা কমে যাওয়ার ইঙ্গিতের পাশাপাশি ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার পক্ষে বেড়েছে সমর্থনও।
প্রায় ৩৮ শতাংশ বলেছেন, যুক্তরাজ্যের উচিত ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করা। অন্যদিকে মাত্র ১৯ শতাংশ মত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ অবস্থানের পক্ষে।
জরিপের এই ফল এমন এক সময়ে এল, যখন ট্রাম্পের সংঘাতমুখী পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে দেশের ভেতরে অস্বস্তি বাড়লেও নিরাপত্তা সহযোগিতার স্বার্থে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে যুক্তরাজ্য।















