স্পেন সংকট নিয়ে ছবি শেয়ার, বিতর্কে জার্মান সাংবাদিক

সংগৃহীত ছবি
স্পেনের উত্তর আফ্রিকা ছিটমহল সেউতায় অভিবাসী সংকট নিয়ে একটি বিতর্কিত বিশ্লেষণ শেয়ার করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন জার্মানির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এআরডির সাংবাদিক জর্জ রেস্টলে। তার বিরুদ্ধে ইসরাইল ও ইহুদিবিদ্বেষী এবং ষড়যন্ত্রতত্ত্ব প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে জার্মানির ডব্লিউডিআর সম্প্রচার কাউন্সিলও হস্তক্ষেপ করেছে।
প্রসঙ্গত, স্পেনের সেউতায় সাম্প্রতিক অভিবাসী ঢল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানান রকম বিশ্লেষণ ও তত্ত্ব ছড়িয়েছে। এর মধ্যে একটি বিশ্লেষণে দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জোট এই সংকটের পেছনে রয়েছে। মরক্কোকে সাথে নিয়ে ইসরাইলের উদ্দেশ্য স্পেনকে দুর্বল করা এবং ইউরোপকে বিভক্ত করা। কেননা, ইরান যুদ্ধের শুরু থেকেই স্পেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সমালোচনা করছে। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া না গেলেও, ইউরোপের জনগণ ব্যাপকভাবে তা বিশ্বাস করেছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন রাজনৈতিক ভাষ্যকার কার্লসনসহ কয়েকজনও স্পেন সংকটের পেছনে ইসরাইল দায়ী এমন দাবি শেয়ার করেছেন। এ নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি একটি ছবিও ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মুখ থেকে অভিবাসীদের বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। ছবিটি লাখো মানুষ দেখেছেন ও শেয়ার করেছেন।
এ ধরনের দাবি শেয়ার করেছেন জার্মানির এআরডির সাংবাদিক জর্জ রেস্টলেও। তিনি আগে এআরডির অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান মনিটর এর প্রধান ছিলেন। বর্তমানে আফ্রিকা বিষয়ে এআরডির প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করছেন।
রেস্টলে মার্কিন সাময়িকী দ্য নেশন এ প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণের অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শেয়ার করেন। ওই বিশ্লেষণে দাবি করা হয়, সেউতার সংকট কোনো মানবিক সংকট বা উপনিবেশবিরোধী আন্দোলনের অংশ নয়। বরং যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও মরক্কোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাধ্যমে ইউরোপের একটি প্রগতিশীল সরকারকে দুর্বল করা এবং ইউরোপকে বিভক্ত করার চেষ্টা চলছে।
রেস্টলের এই পোস্টের তীব্র সমালোচনা করেন জার্মানির কয়েকজন রাজনীতিক। ক্ষমতাসীন জোটের রাজনীতিক সেরাপ গুল অভিযোগ করেন, এটি ইহুদিবিদ্বেষ ও আমেরিকাবিরোধী ষড়যন্ত্রতত্ত্বের উদাহরণ। গ্রিন পার্টির রাজনীতিক ও জার্মান- ইসরায়েল সোসাইটির সভাপতি ফোলকার বেকও রেস্টলের কাছে ওই দাবির প্রমাণ চান।
বিষয়টি নিয়ে ডব্লিউডিআরের সম্প্রচার কাউন্সিলেও অভিযোগ করা হয়েছে। কাউন্সিলের সদস্য ফেলিক্স শটল্যান্ড ডব্লিউডিআরের অনুষ্ঠান পরিচালককে চিঠি দিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমের একজন সাংবাদিকের তথ্যনির্ভর, সতর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণ বক্তব্য দেওয়া উচিত। এ ধরনের বক্তব্য গণমাধ্যমটির স্বাধীনতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর আস্থা নষ্ট করতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সমালোচনার দুই দিন পর নিজের পোস্ট নিয়ে ব্যাখ্যা দেন রেস্টলে। তিনি বলেন, তিনি কেবল একজন মার্কিন অধ্যাপকের ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষণ থেকে একটি উদ্ধৃতি শেয়ার করেছিলেন। ওই উদ্ধৃতিকে তার নিজের বক্তব্য হিসেবে দেখানো অযৌক্তিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে তিনি স্বীকার করেন, কোনো মন্তব্য ছাড়াই উদ্ধৃতিটি শেয়ার করা তার ভুল হয়েছে। কারণ এতে পাঠকের কাছে মনে হতে পারে, বক্তব্যটি তার নিজের।



