ইউক্রেনের আকাশ অরক্ষিত, শহরে শহরে মৃত্যু
পুতিনের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধাপরাধের’ অভিযোগ ব্রিটেনের
- রুশ হামলায় অসহায় ইউক্রেন
- ক্ষেপণাস্ত্র নামছে বসতবাড়িতে, ঠেকানোর অস্ত্র কমছে কিয়েভের
- রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থনীতিকে চাপে ফেলতে ৩৮ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজে নতুন নিষেধাজ্ঞা ব্রিটেনের

একটি ছোট ব্যাগ হাতে ধ্বংসস্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন বৃদ্ধ মানুষটি। ৫৬ বছর ধরে যে ফ্ল্যাটে তাঁর জীবন কেটেছে, সেটি আর নেই। কয়েক কদম দূরে পড়ে ছিল শিশুদের খেলনা। সেই ধ্বংসস্তূপেই দাঁড়িয়েছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড। তাঁদের সামনে ছিল যুদ্ধের আরেকটি হিসাব, ২২টি প্রাণ, এর মধ্যে পাঁচ শিশু।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) আইটিভি নিউজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষায় ভয়াবহ ঘাটতির মধ্যে বেসামরিক এলাকায় রুশ হামলা বাড়ছে। এসব হামলাকে “যুদ্ধাপরাধ” বলে অভিযুক্ত করেছেন মিলিব্যান্ড।
উত্তরাঞ্চলীয় প্রিলুকি শহরের পাঁচতলা আবাসিক ভবনটিতে বুধবার ভোরে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। নিহত হন ২২ জন। আইটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধকের সংকটে ইউক্রেনের বড় শহরগুলো আরও ঝুঁকিতে পড়েছে।
ধ্বংসস্তূপের সামনে জেলেনস্কি বলেছেন, “আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষায় বড় ঘাটতি আছে। সহায়তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ, কিন্তু আমাদের আরও অনেক বেশি আকাশ প্রতিরক্ষা প্রয়োজন।”
তিনি বলেছেন, “আমরা অপেক্ষা করতে পারি না। বেসামরিক মানুষের ওপর এই হামলাই পুতিনের আসল চেহারা।” তাঁর বক্তব্য, ইউক্রেন একা এত বড় দেশের প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দ্রুত তৈরি করতে পারবে না। তাই যুক্তরাষ্ট্রসহ মিত্রদের কাছ থেকে ব্যবস্থা কেনার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।
মিলিব্যান্ড বলেছেন, “আন্তর্জাতিক আইন কী বলে আমরা জানি। যখন বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করা হয়, সেটি যুদ্ধাপরাধ। আমি এখানে সেই প্রমাণই দেখছি।” তিনি জানান, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিরোধক বাড়াতে অন্য মিত্রদের রাজি করাতে ব্রিটেন কাজ করবে।
একই দিনে পূর্বাঞ্চলীয় ক্রামাতোরস্কে একটি বাসে রুশ হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। দুই দিনে রুশ হামলায় ইউক্রেনে ৭০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
মস্কো অবশ্য বলেছে, তাদের সাম্প্রতিক বড় আক্রমণের লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের সামরিক শিল্প, অস্ত্র উৎপাদন ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো। বেসামরিক মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্য করার অভিযোগ তারা প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
কিয়েভ সফরে মিলিব্যান্ড রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে ৩৮টি নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছেন। এর আওতায় এসেছে রুশ তেল খাত, তথাকথিত ‘ছায়া নৌবহরের’ জাহাজ এবং রাশিয়ার সামরিক সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। একই সঙ্গে ইউক্রেনের শীতকালীন জ্বালানি ও মানবিক সহায়তায় ৫ কোটি ৪০ লাখ পাউন্ড দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। যুদ্ধাপরাধের বিচার ও জবাবদিহির কাজেও অতিরিক্ত অর্থ দেবে ব্রিটেন।
ইউক্রেনের যুদ্ধ এখন শুধু সম্মুখসারির মানচিত্রে নয়। লড়াই পৌঁছে গেছে মানুষের রান্নাঘর, শোবার ঘর আর শিশুদের খেলনার পাশে।
আকাশ থেকে যখন ক্ষেপণাস্ত্র নামে, তখন একটি শহরের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন আর কে এগোচ্ছে, কে পিছু হটছে, তা থাকে না। প্রশ্ন থাকে একটাই, পরের ক্ষেপণাস্ত্রটি নামার আগে আকাশে তাকে থামানোর মতো আর কোনো ঢাল আছে কি না।



