স্পেনের সঙ্গে শেনজেন চুক্তি সাময়িক স্থগিত করল ইতালি
- অভিবাসী ইস্যুতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে ইইউ’র ২২ দেশ
- সীমান্তে নজিরবিহীন কড়াকড়ি পদক্ষেপ মেল

ছবি: রয়টার্স
স্পেনেরে অবৈধ অভিবাসী ঢল যেন নিজের দেশে আছড়ে না পড়ে সে লক্ষ্যে দেশটির সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ)অবাধ চলাচলের শেনজেন চুক্তি সাময়িক স্থগিতি করলো ইতালি। সমুদ্র সাঁতরে ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসি মরোক্কর স্পেন ছিটমহল সেউতাতে ঢুকে পড়ার দিন শুক্রবারই এই ঘোষনা দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি। এক্স বার্তায় তাজানি লিখেছেন, "স্পেনের সাথে শেনজেন চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্তটি আমাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষা এবং ইউরোপের সীমানা সুরক্ষার জন্য অপরিহার্য।"
স্পেনের সাথে জল স্থল ও আকাশপথে সাময়িকভাবে অবাধ চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জা মেলোনিও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানান, এটি একটি জরুরি ও সাময়িক পদক্ষেপ। গ্রীষ্মকালীন পর্যটনে যেন ব্যাঘাত না ঘটে, সে বিষয়টি খেয়াল রেখেই সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। কেবল সীমান্ত বন্ধ করেই থেমে নেই ইতালি। সমস্যাটিকে পুরো ইউরোপের সংকট অভিহিত করে ডেনমার্ককে সাথে নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২২টি দেশের স্বাক্ষরযুক্ত একটি বিশেষ চিঠি প্রকাশ করেছে ইতালি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অবৈধ অভিবাসন ইস্যুতে ইতালি এতদিন ধরে যে শক্ত অবস্থানের কথা বলে আসছিল, ২২টি দেশের এই নজিরবিহীন সমর্থন প্রমাণ করে—সমগ্র ইউরোপ এখন ইতালি সেই কঠোর অবস্থানের দিকেই এগোচ্ছে।
সেউতার সীমান্ত সংকট মোকাবেলায় ইইউ-এর ২২টি দেশকে নিয়ে যৌথ উদ্যোগের ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিও। গতকাল ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন কাউন্সিলের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাইকেল মার্টিনকে একটি যৌথ চিঠি দিয়েছেন। নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকেও এদনি সে বার্তা দেন মেলোনি। লিখেছেন ,"আমাদের সীমান্ত রক্ষা করার অর্থ হলো নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অবৈধ অভিবাসন মোকাবেলা করা এবং মানব পাচারকারী চক্রগুলোকে নির্মূল করা। ইউনিয়নের বাহ্যিক সীমান্ত রক্ষা কোনো একক দেশের স্বার্থ নয়, এটি সমগ্র ইউরোপের যৌথ দায়িত্ব।" ২২টি দেশের যৌথ এই চিঠিতে প্রধানত পাঁচটি প্রধান বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে— ইইউ-এর বহিঃসীমান্ত শক্তিশালী করা, অনিয়মিত প্রবেশ প্রতিরোধ, মানব পাচারকারী চক্রের দমন, দ্রুত ও কার্যকর প্রত্যাবাসন, এবং অবৈধ অনুপ্রবেশে উৎসাহ যোগায় এমন কারণগুলো পুরোপুরি নির্মূল করা।






