ইউক্রেনের কার্গো জাহাজ ও ইস্পাত কারখানায় রাশিয়ার হামলা

ছবি: রয়টার্স
ইউক্রেনে আবারও বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। দেশটির বিভিন্ন শিল্পকারখানা ও কার্গো জাহাজে আঘাত হেনেছে রুশ বাহিনী। পাল্টা হামলায় রাশিয়ার শিল্প স্থাপনাও লক্ষ্য করেছে ইউক্রেন। এতে দুই দেশের সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেনের বিভিন্ন শিল্প স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল দেশটির উৎপাদন ও সামরিক অবকাঠামো।
স্থানীয় সময় শনিবার ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়ায় ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান জাপোরিঝস্টাল কারখানায় হামলা চালানো হয়। রাশিয়ার দাবি, দনিপ্রোর ইন্টারপাইপ স্টিল কমপ্লেক্সেও আঘাত হানা হয়েছে। এছাড়া প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নিজ শহর ক্রিভি রিহর কয়েকটি কারখানায়ও হামলা চালানোর দাবি করেছে মস্কো।
রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স জানিয়েছে, কৃষ্ণসাগরের বন্দর চোরনোমোরস্কে রাতের হামলায় দুটি কার্গো জাহাজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর আগে রাশিয়ার সামারা অঞ্চলের শিল্প স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেন। অঞ্চলটির গভর্নর ভিয়াচেস্লাভ ফেদোরিশচেভ এ তথ্য জানিয়েছেন।
ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, একটি ড্রোন টলিয়াত্তিকাউচুক কারখানায় আঘাত হেনেছে। কারখানাটিতে সিনথেটিক রাবার ও জ্বালানি সংযোজক তৈরি করা হয়। এসব উপাদান রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের জ্বালানিতেও ব্যবহার করা হয়।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, রাতভর ইউক্রেনের ২৩০টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে তারা। রাশিয়ার ১২টির বেশি অঞ্চল ছাড়াও ক্রিমিয়া, আজভ ও কৃষ্ণসাগরের আকাশে এসব ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
সামারা অঞ্চলের তোলিয়াত্তি শহরের মেয়র ইলিয়া সুখিখ জানিয়েছেন, ড্রোন হামলায় কয়েকটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে একজন আহত হয়েছেন।
এদিকে তাগানরগ শহরেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় মেয়র সভেতলানা কামবুলোভার বরাতে রুশ বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, সেখানে চারটি বাণিজ্যিক স্থাপনায় আগুন ধরে যায়।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রুশ হামলা শুরুর পর থেকে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র, প্রতিরক্ষা কারখানা ও সরবরাহ ব্যবস্থায় নিয়মিত হামলা চালিয়ে আসছে মস্কো। এসব হামলার লক্ষ্য ইউক্রেনের অস্ত্র উৎপাদন ব্যাহত করা এবং বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহে চাপ তৈরি করা।
রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে উইটকফ-কুশনার ‘কিছু ভালো পরামর্শ’ দিয়েছেন: জেলেনস্কি
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এদিকে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেছেন, আগামী ডিসেম্বর ফ্লোরিডায় অনুষ্ঠেয় জি-২০ সম্মেলনে তাকে ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আমন্ত্রণ জানানো হলে তিনি পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভেও রুশ হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দুটি পেট্রল স্টেশনে রুশ হামলায় অন্তত দুজন নিহত হন। এর আগের দিনও কিয়েভের কয়েকটি জ্বালানি স্টেশনে হামলা চালানো হয়। এতে ধারণা করা হচ্ছে, রাশিয়া এখন বেসামরিক স্থাপনাকেও হামলার লক্ষ্য করছে।
এ ছাড়া দনিপ্রোপেত্রোভস্ক, জাপোরিঝঝিয়া ও খারকিভ অঞ্চলে রুশ হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় গভর্নররা জানিয়েছেন।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো জানিয়েছেন, সেখানে ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১২ বছরের একটি শিশুও রয়েছে।
কিয়েভ অঞ্চলেও হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। একই রাতে ওদেসায় রুশ হামলায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের কর্মকর্তারা।
অন্যদিকে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় একজন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বেলগোরোদেও ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় একজন নিহত হন।
রাশিয়ার নিয়ন্ত্রিত দনেস্ক অঞ্চলে ড্রোন হামলায় স্থানীয় একটি গ্যাস কোম্পানির দুই কর্মী নিহত হয়েছেন। ভলগোগ্রাদেও ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। সেখানে দুটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি শিল্প স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে দুজন আহত হয়েছেন।
সূত্র: আলজাজিরা




