অভিবাসন নীতি শিথিলে তৎপর ব্রিটিশ মন্ত্রীরা

সংগৃহীত ছবি
দলীয় আপত্তি বাড়তে থাকায় যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি প্রস্তাবিত অভিবাসন নীতিতে কিছুটা শিথিলতা আনার পথ খুঁজছে। সরকারের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীরা এ বিষয়ে দলীয় ব্যাকবেঞ্চারদের সঙ্গে নীরবে আলোচনা চালাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পরামর্শ প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন। এই পরিবর্তন কার্যকর হলে যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (আইএলআর) পাওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, অধিকাংশ অভিবাসীর ক্ষেত্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য অপেক্ষার সময় পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করা হবে। এ নিয়ে লেবার পার্টির অনেক সংসদ সদস্য উদ্বেগ জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, এতে ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত অভিবাসীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
দলীয় বিরোধিতার মূল দাবি, নতুন নিয়ম যেন পূর্ববর্তী সময় থেকে কার্যকর না করা হয়। অর্থাৎ, যারা বর্তমান নিয়মে যুক্তরাজ্যে এসেছেন, তাদের ক্ষেত্রে মাঝপথে শর্ত পরিবর্তন না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী এঞ্জেলা রেইনারসহ দলটির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা এই অবস্থানের পক্ষে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমেএ খবরে বলা হয়, সরকারি খাতে কর্মরত অভিবাসী এবং স্থায়ী বসবাসের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া ব্যক্তিদের জন্য কিছু ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এতে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন অনেক সংসদ সদস্য।
পররাষ্ট্রবিষয়ক সিলেক্ট কমিটির চেয়ারম্যান এমিলি থর্নবেরি ‘আর্নড সেটেলমেন্ট’সহ বিভিন্ন বিষয়ে আরও বড় পরিসরে পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন। কয়েকজন এমপি মনে করছেন, উল্লেখযোগ্য সংশোধন না এলে দলীয় বিভক্তি বাড়তে পারে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে। কয়েকজন এমপি অভিযোগ করেছেন, তাদের চিঠির জবাব পাওয়া যায়নি। কেউ কেউ বলেছেন, ভিন্নমত জানালে তা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। প্রস্তাবগুলো সংসদে ভোট ছাড়াই কার্যকর করা সম্ভব হওয়ায় বিরোধিতার সুযোগও সীমিত।
এদিকে, প্রায় ১০০ জন এমপির স্বাক্ষরিত এক চিঠির সমন্বয়ক টনি ভনকে নিয়ে সমালোচনামূলক প্রতিবেদন প্রকাশের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়, বহু বছর ধরে বৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের লক্ষ্য করে পদক্ষেপ নিলে জনআস্থা ক্ষুণ্ন হতে পারে। অ্যাটর্নি জেনারেল রিচার্ড হারমারও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এমন অবস্থা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। যদিও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এসবের দায় অস্বীকার করেছে।
বিষয়টি নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। গ্রিন পার্টি তাদের প্রচারে লেবারের সমালোচনা করে বলছে, সরকার ‘পরিশ্রমী অভিবাসীদের শাস্তি দিচ্ছে’।
এই বিতর্ক এমন সময়ে সামনে এল, যখন লেবার পার্টি ডানপন্থী নেতা নাইজেল ফ্যারেজ-এর দল 'রিফর্ম ইউকে'র উত্থান মোকাবিলায় চেষ্টা করছে। তবে সাম্প্রতিক এক উপনির্বাচনে গ্রিন পার্টির জয় ক্ষমতাসীনদের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
দলের ভেতর থেকেও কড়া সমালোচনা এসেছে। ট্রিবিউন গ্রুপের নেতা সারা ওউয়েন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন প্রয়োগ ব্যবস্থার সঙ্গে কিছু দিকের তুলনা করেছেন।
এ প্রসঙ্গে অ্যাঞ্জেলা রেইনার বলেছেন, ‘আমরা যদি বারবার লক্ষ্য বদলাই, তাহলে সেটেলমেন্ট অর্জনের কথা বলা অর্থহীন হয়ে যায়। লক্ষ্য বদলানো ন্যায্যতার ধারণাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এটি ব্রিটিশ মূল্যবোধের পরিপন্থী।’
সমালোচনার মুখেও সরকার তাদের অবস্থানে অনড়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ-এর দপ্তর থেকে বলা হয়েছে, ‘এই দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ অর্জন করতে হয়, এটি স্বয়ংক্রিয় নয়।’
২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে অভিবাসনের উচ্চমাত্রার কথাও উল্লেখ করা হয়।
সরকার জানিয়েছে, এ বিষয়ে জনপরামর্শ থেকে পাওয়া প্রায় দুই লাখ মতামত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী কয়েক মাসের মধ্যে জানানো হতে পারে।















