অভিবাসীদের হাতেই ব্রিটেনের অর্থনৈতিক লাভ, অথচ নীতিতে উল্টো সুর

বিদেশি কর্মীরা কি ব্রিটেনের অর্থনীতির বোঝা, নাকি তারই চালিকাশক্তি? অভিবাসন কঠোর করার তোড়জোড়ের মধ্যে এবার সেই প্রশ্নে উল্টো হিসাব সামনে এলো। যাদের স্থায়ী বসবাসের পথ দীর্ঘ করতে চাইছে সরকার, তাদের করেই রাষ্ট্রীয় কোষাগারে যোগ হতে পারে বিপুল অর্থ। অঙ্কটা ১১ হাজার ৫০০ কোটি পাউন্ড! এই তথ্য ঘিরে নতুন চাপে ব্রিটিশ সরকারের অভিবাসননীতি।
সোমবার (২ নভেম্বর) ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টাইমস এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চের প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, বর্তমান নিয়মে ২০২৬-৩০ সালের মধ্যে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকা দক্ষ বিদেশি কর্মী ও তাদের প্রাপ্তবয়স্ক নির্ভরশীলরা সারা জীবনে ব্রিটেনের সরকারি অর্থভাণ্ডারে খরচের তুলনায় নিট প্রায় ১১ হাজার ৫০০ কোটি পাউন্ড বেশি অবদান রাখতে পারেন।
গবেষণায় স্বাস্থ্য ও পরিচর্যাকর্মীদেরও রাখা হয়েছে। তাদের বাইরে অন্যান্য দক্ষ কর্মীদের প্রধান আবেদনকারীদের নিট অবদান প্রায় ১১ হাজার ৩০০ কোটি পাউন্ড। স্বাস্থ্য ও পরিচর্যাকর্মীদের ক্ষেত্রে প্রায় এক হাজার কোটি পাউন্ড ইতিবাচক অবদান অনুমান করা হয়েছে। তবে তাদের প্রাপ্তবয়স্ক নির্ভরশীলদের ক্ষেত্রে ব্যয় প্রায় ৯০০ কোটি পাউন্ড বেশি হতে পারে।
অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ববর্তী হিসাবে বিদেশি পরিচর্যাকর্মী ও তাদের নির্ভরশীলদের নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর আজীবন নিট ব্যয় প্রায় এক হাজার কোটি পাউন্ড হতে পারে। তবে এটি স্থায়ী হওয়ার সময়সীমা বাড়ালে সরকারের সম্ভাব্য সাশ্রয়ের হিসাব নয়। গবেষকরা বলেছেন, শুধু একটি গোষ্ঠীর ব্যয় দিয়ে গোটা দক্ষ অভিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমিকা বিচার করা যায় না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ অধিকাংশ আবেদনকারীর স্থায়ী বসবাসের ন্যূনতম সময় ৫-১০ বছর এবং অপেক্ষাকৃত কম দক্ষতার চাকরিতে থাকা কিছু কর্মীর ক্ষেত্রে ১৫ বছর করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এর মধ্যে ব্রিটেনে কর্মরত ব্যক্তিদের ওপরও নতুন নিয়ম কার্যকরের পরিকল্পনা ব্যাপক সমালোচনা তৈরি করেছে। পরামর্শপ্রক্রিয়ায় ২ লাখের বেশি মতামত জমা পড়েছে।
সোমবার সংসদে সরকারের সিদ্ধান্ত জানাতে পারেন মাহমুদ। খবর রয়েছে, বর্তমানে ব্রিটেনে থাকা পরিচর্যাকর্মীদের পাঁচ বছরের সুযোগ অক্ষুণ্ন রাখা হতে পারে। তবে সিদ্ধান্ত এখনো নিশ্চিত নয়।
গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অভিবাসনবিষয়ক সহযোগী পরিচালক মার্লি মরিস বলেছেন, অভিবাসনের খরচ নিয়ে আলোচনায় পুরো চিত্র উঠে আসছে না। যারা প্রচলিত নিয়ম মেনে ব্রিটেনে এসেছেন, তাদের জন্য ন্যায্য সমাধান প্রয়োজন।
অন্য দক্ষ কর্মীদের জন্যও পাঁচ বছর পর অন্তর্বর্তী বসবাসের মর্যাদা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি। এতে তারা নির্দিষ্ট নিয়োগদাতার অনুমোদন ছাড়াই চাকরি বদলাতে পারবেন।
বাংলাদেশিসহ বিদেশি কর্মীদের কাছে বিতর্কটি শুধু টাকার নয়, ভবিষ্যৎ বসতি ও চাকরির নিশ্চয়তারও। যে মানুষের শ্রমে অর্থনীতি লাভবান হওয়ার হিসাব মিলছে, তার স্থায়ী হওয়ার দরজা আরও কঠিন করে দেওয়া কি সুবিচার?



