ইংল্যান্ডে কোভিডের নতুন ঢেউ
- ‘আমেরিকান’ নামে পরিচিত ধরনে বাড়ছে সংক্রমণ

যে ভাইরাসকে পৃথিবী বিদায় জানিয়েছিল বলে মনে হচ্ছিল, শরতের ঠান্ডা হাওয়ার সঙ্গে সে আবার নিঃশব্দে দরজায় কড়া নাড়ছে। ইংল্যান্ডে ফের বাড়ছে কোভিড সংক্রমণ। হাসপাতালের পরীক্ষায় আক্রান্ত শনাক্তের হার যেমন বেড়েছে, তেমনই মাত্র এক সপ্তাহে কোভিড নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার হারও প্রায় ৫০ শতাংশ লাফ দিয়েছে। বিশেষ নজরে রয়েছে এক্সএফজি নামের একটি ধরন, যাকে সংবাদমাধ্যমের একাংশ ‘স্ট্র্যাটাস’ বা ‘আমেরিকান কোভিড’ নামে ডাকছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) মেট্রোর প্রকাশিত প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থার সর্বশেষ তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, হাসপাতালভিত্তিক পরীক্ষায় কোভিড শনাক্তের হার ৫ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তির হার প্রতি এক লাখে শূন্য দশমিক ৮১ থেকে বেড়ে ১ দশমিক ২০ হয়েছে, অর্থাৎ বৃদ্ধি প্রায় ৪৮ শতাংশ।
সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি দেখা গেছে লন্ডনে। সেখানে এক সপ্তাহের ব্যবধানে কোভিডে হাসপাতালে ভর্তির হার প্রায় ৭৯ শতাংশ বেড়েছে। বয়স্কদের মধ্যে ঝুঁকি আরও বেশি। বিশেষ করে ৮৫ বছরের বেশি বয়সীদের হাসপাতালে ভর্তির হার প্রতি এক লাখে ৭ দশমিক ০৮ থেকে বেড়ে ১২ দশমিক ৪৩ হয়েছে।
সংক্রমণের পেছনে আলোচনায় রয়েছে এক্সএফজি পরিবারের স্ট্র্যাটাস ধরন। সাম্প্রতিক জিনগত বিশ্লেষণে ইংল্যান্ডের নমুনার বড় অংশেই এক্সএফজির বিভিন্ন উপধরন পাওয়া গেছে। ১৭ থেকে ৩০ আগস্টের মধ্যে বিশ্লেষণ করা নমুনার ৪৬ দশমিক ২ শতাংশ ছিল এক্সএফজি.২৩.১.৩ এবং আরও কয়েকটি নমুনাতেও এক্সএফজি পরিবারের অন্য ধরন পাওয়া যায়।
তবে ‘আমেরিকান কোভিড’ কোনো সরকারি বা বৈজ্ঞানিক নাম নয়। এটি মূলত সংবাদমাধ্যমে ব্যবহৃত ডাকনাম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এক্সএফজিকে পর্যবেক্ষণে থাকা করোনাভাইরাসের একটি ধরন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এটি ওমিক্রনের আগের দুটি শাখার পুনর্গঠিত রূপ। এখন পর্যন্ত এই ধরন অন্য প্রচলিত ধরনের তুলনায় বেশি গুরুতর অসুস্থতা ঘটায়, এমন প্রমাণ নেই।
বিশেষজ্ঞরাও আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্রমণ ও রোগপ্রতিরোধবিদ্যার শিক্ষক ম্যাথিউ সিগিন্স বলেছেন, বছরের এই সময়ে কোভিড বাড়া “অপ্রত্যাশিত নয়”। সামগ্রিকভাবে সংক্রমণ ও হাসপাতালে ভর্তির মাত্রা এখনও তুলনামূলক নিচু স্তরেই রয়েছে।
স্ট্র্যাটাসে আক্রান্তদের উপসর্গ আগের কোভিড ধরনগুলোর মতোই। গলা ব্যথা, কাশি, জ্বর, ক্লান্তি, মাথাব্যথা, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং গলা ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে ৭৫ বছরের বেশি বয়সী, কেয়ার হোমের বাসিন্দা এবং দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার মানুষদের শরৎকালীন টিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বার্তা তাই আতঙ্কের নয়, সতর্কতার। কোভিড মহামারির সেই ভয়াবহ দিনে ফিরেছে এমন কোনো প্রমাণ নেই। কিন্তু ইংল্যান্ডের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান মনে করিয়ে দিচ্ছে, ভাইরাসটি হারিয়ে যায়নি, বরং ঋতু ও নতুন ধরনের সঙ্গে বদলে বদলে এখনও মানুষের সঙ্গেই রয়েছে।



