আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভিসায় নতুন কঠোর নীতি যুক্তরাজ্যের

রয়টার্স
যুক্তরাজ্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে নতুন কঠোর নীতি ঘোষণা করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি ও তদারকিতে নির্ধারিত মান পূরণে ব্যর্থ হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমনকি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী স্পনসর করার লাইসেন্সও বাতিল হতে পারে।
বৃহস্পতিবার হোম অফিস জানায়, অভিবাসন কমানো ও শিক্ষার্থী ভিসার অপব্যবহার ঠেকাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়মে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থী ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ৫ শতাংশের নিচে রাখতে হবে, যেখানে আগে সীমা ছিল ১০ শতাংশ। পাশাপাশি অন্তত ৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থীকে কোর্সে ভর্তি এবং ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে কোর্স সম্পন্ন নিশ্চিত করতে হবে।
সরকার জানিয়েছে, ২০২৭ সালের গ্রীষ্ম থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য ‘ট্রাফিক লাইট’ মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু হবে। ‘রেড’ ক্যাটাগরিতে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি সীমিত করা হবে এবং প্রয়োজনে বাতিল করা হতে পারে স্পনসরশিপ অধিকার।
অভিবাসন ও নাগরিকত্ব বিষয়কমন্ত্রী মাইক ট্যাপ বলেছেন, যুক্তরাজ্য প্রকৃত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানাবে, তবে ভিসাব্যবস্থা অবৈধ কাজ বা আশ্রয় আবেদনের ‘পেছনের দরজা’ হতে পারে না। তিনি জানান, গত এক বছরে শিক্ষার্থী ভিসায় আসা ব্যক্তিদের আশ্রয় আবেদন ৩০ শতাংশ কমেছে, তবু আরও কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত এক বছরে শিক্ষার্থী ভিসায় যুক্তরাজ্যে এসে পরে আশ্রয় আবেদন করেছেন ১০ হাজার ৮৩৫ জন। একই সময়ে দেওয়া হয়েছে ৪ লাখ ৯ হাজার ৯৫৪টি স্পনসরড স্টাডি ভিসা।
নতুন নীতিতে উদ্বেগ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় খাত। ইউনিভার্সিটিজ ইউকের সভাপতি ম্যালকম প্রেস বলেছেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে বছরে প্রায় ৩৭ বিলিয়ন পাউন্ড অবদান রাখেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নিয়মে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তিতে আরও সতর্ক ও বাছাইভিত্তিক নীতি গ্রহণ করতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।




