সাইপ্রাসে স্পিড ক্যামেরার মাধ্যমে ইউকেনের উপর নজরদারির চেষ্টা রাশিয়ার

২০২২-এ ইউক্রেনের উপর রাশিার আক্রমণের পর সাইপ্রাস ইউরোপিয় ইউনিয়নের দিকে ঝুঁকে পড়লে দুই দেশের মাঝে দূরত্ব বাড়তে থাকে।
রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক ভালোই ছিল সাইপ্রাসের। তবে ২০২২-এ ইউক্রেনের উপর রাশিার আক্রমণের পর সাইপ্রাস ইউরোপিয় ইউনিয়নের দিকে ঝুঁকে পড়লে দুই দেশের মাঝে দূরত্ব বাড়তে থাকে। এরই মাঝে সাইপ্রাসে সরকারের অজ্ঞাতে রাশিয়ায় তৈরি স্পিড ক্যামেরা দিয়ে ইউক্রেনের উপর নজরদারির চেষ্টা চালিয়েছে রাশিয়া।
সাইপ্রাসের একটি কোম্পানি রাশিয়ায় তৈরি স্পিড ক্যামেরা স্লোভাক সরকারের কাছে বিক্রির চেষ্টা করেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ক্যামেরাগুলো সাইপ্রাসে তৈরি বলে দাবি করা হলেও তদন্তে এগুলোর নির্মাতা হিসেবে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সিমিকন-এর নাম উঠে এসেছে।
সুইস সংবাদপত্র নয়ে সুরখার জাইটুং-এর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, সোডাসাস লিমিটেড নামের সাইপ্রাসভিত্তিক একটি কোম্পানি স্লোভাক সরকারের কাছে মোট ২৭৯টি স্পিড ক্যামেরা সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছিল। কোম্পানিটি দাবি করেছিল, ক্যামেরাগুলো তারা নিজেরাই তৈরি করেছে।
তবে পরবর্তী নিরাপত্তা পরীক্ষায় বিষয়টি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে। স্লোভাকিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের তদন্তে ক্যামেরাগুলোতে বেশ কিছু নিরাপত্তা দুর্বলতা ও সম্ভাব্য গোপন যোগাযোগব্যবস্থা শনাক্ত করা হয়।
তদন্তে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়গুলোর একটি ছিল ক্যামেরার ভেতরে থাকা একটি গোপন দ্বিতীয় সিমকার্ডের স্লট। এছাড়া ডিভাইসগুলোতে এমন সক্ষমতা পাওয়া যায়, যার মাধ্যমে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ এবং সাইবেরিয়ার কেমেরোভো অঞ্চলে নিবন্ধিত ১২টি ফোন নম্বর থেকে এসএমএসের মাধ্যমে কমান্ড গ্রহণ করা সম্ভব বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।
এমন তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর স্লোভাক কর্তৃপক্ষ নতুন ক্যামেরাগুলোর পরীক্ষা তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেয়।
সোডাসাস লিমিটেড সাইপ্রাসের নিকোসিয়ার স্ট্রোভোলোস অ্যাভিনিউ এলাকায় নিবন্ধিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কোম্পানিটি ২০২১ সাল থেকে নিবন্ধিত হলেও দ্বীপটিতে তাদের উল্লেখযোগ্য ব্যবসায়িক কার্যক্রমের খুব বেশি প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
ক্যামেরাগুলো প্রথমে সাইপ্রাসে আমদানি করা হয়েছিল কি না এবং পরে সেগুলোকে ‘সাইপ্রাসে তৈরি পণ্য’ হিসেবে দেখিয়ে স্লোভাকিয়ায় রপ্তানির চেষ্টা করা হয়েছিল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইউরোপজুড়ে সামরিক সরঞ্জাম ও ইউক্রেনে পশ্চিমা সহায়তা পরিবহনের গতিবিধি নজরদারিতে রাশিয়ার সম্ভাব্য সাইবার তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ইউক্রেনীয় সংবাদমাধ্যম প্রাভদা-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেদারল্যান্ডসের কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি দেশটির সামরিক সরবরাহ পরিবহনপথের কাছে থাকা অল্পসংখ্যক ট্রাফিক ক্যামেরা কমপ্রোমাইজড বা অননুমোদিতভাবে নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় পেয়েছে।
এর আগে ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছিল, যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সীমান্ত নিরাপত্তা ক্যামেরায় রুশ হ্যাকিংয়ের প্রচেষ্টা শনাক্ত করেছিল। এসব ক্যামেরা ব্যবহার করে ইউক্রেনের দিকে পশ্চিমা সামরিক সহায়তা ও অন্যান্য সরঞ্জাম পরিবহনের গতিবিধি নজরদারি করার চেষ্টা করা হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছিল।
যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টারের এক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছিল, সীমান্ত ক্রসিং, সামরিক স্থাপনা ও রেলস্টেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানের ব্যক্তিগত ক্যামেরায় প্রবেশাধিকার পাওয়ার মাধ্যমে রুশ পক্ষ ইউক্রেনে পাঠানো সামগ্রীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে পারে। এমনকি বৈধ পৌরসভার ট্রাফিক ক্যামেরাও এ ধরনের নজরদারিতে ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করা হয়েছিল।
সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোদৌলিদেস এর আগে রাশিয়ার ওপর আরোপিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে সহায়তাকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
তিনি বলেছিলেন, নিষেধাজ্ঞা ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার এবং এর কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে। যারা নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনে সহায়তা করার চেষ্টা করছে, তাদের মোকাবিলা করাও জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেছিলেন।
সাইপ্রাসের কোম্পানিকে ঘিরে ওঠা সর্বশেষ অভিযোগের ক্ষেত্রে অবশ্য ক্যামেরাগুলো কীভাবে সাইপ্রাসে পৌঁছেছিল, কে সেগুলো আমদানি করেছিল এবং সোডাসাস লিমিটেড-এর সঙ্গে রুশ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সম্পর্ক কী—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও পরিষ্কার নয়। বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।






