বার্লিন প্রাইডে হামলায় সন্দেহভাজন যুবক পুলিশের গুলিতে নিহত

ছবি: রয়টার্স
বার্লিনে প্রাইড উৎসবের ভেতর মিনিভ্যান উঠিয়ে দিয়ে হামলার অভিযোগে সন্দেহভাজন যুবক পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে।
জার্মান পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল রবিবার ২১ বছর বয়সী এক ব্যক্তি গুলিতে নিহত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ইসলামপন্থী উগ্রবাদে জড়িত থাকার আগের রেকর্ড ছিল।
এর এক দিন আগে বার্লিনে প্রাইড উৎসবে হামলার ঘটনায় একজন নিহত হন।
বার্লিন পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছে, গত শনিবারের হামলার সন্দেহভাজনকে গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে বার্লিনের পশ্চিমাঞ্চলীয় স্পানডাউ এলাকার একটি বাগান কমপ্লেক্সে শনাক্ত করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ধারালো অস্ত্র হাতে ওই ব্যক্তি পুলিশের কর্মকর্তাদের দিকে দৌড়ে যান। এরপর পুলিশ গুলি চালায়।
বার্লিন ফায়ার বিভাগের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
বাগানটির মালিক ডাগমার ওইয়েন্ট ও জুলিয়ানে গোটসলার জানিয়েছেন, তারা কয়েকটি গুলির শব্দ শুনেছেন। পরে পুলিশ তাদের বাগানের কুটিরের ভেতরে অবস্থান করতে বলে।
বার্লিন পুলিশ সন্দেহভাজনকে ২১ বছর বয়সী আবদুল বি. হিসেবে শনাক্ত করে তার ছবি প্রকাশ করেছিল। তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দিতে জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
শনিবার রাত ১০টার দিকে ব্রান্ডেনবুর্গ গেটের কাছে টিয়ারগার্টেন পার্কে হামলাটি হয়। ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ বার্ষিক এলজিবিটিকিউ উদ্যাপন ক্রিস্টোফার স্ট্রিট ডে থেকে এলাকাটি খুব বেশি দূরে নয়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় একজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি ২৯ জন আহত হয়েছেন। আহতদের কয়েকজনকে হামলাকারীর হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে।
জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেক্সান্ডার ডোব্রিন্ট বলেছেন, ওই ব্যক্তি অতীতে ‘বহু অপরাধ, উগ্রপন্থায় জড়িয়ে পড়া এবং ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ততার’ কারণে পুলিশের নজরে এসেছিলেন। তিনি ২০০৫ সালে জার্মানিতে জন্ম নেওয়া লেবানিজ বংশোদ্ভূত জার্মান নাগরিক।
বার্লিনের মধ্য-ডানপন্থী চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মেরৎস বলেছেন, স্বাধীনতা রক্ষায় জার্মানি ঐক্যবদ্ধ থাকবে। তিনি বলেছেন, ‘আমরা আমাদের জীবন ও সমাজের স্বাধীনতা, উন্মুক্ততা এবং উদার চেতনাকে রক্ষা করতে যা কিছু করা সম্ভব, সবই করব।’
ব্রান্ডেনবুর্গ গেটে নিহতদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে হাজারো মানুষ অংশ নেন। অনেকে এলজিবিটি রংধনু পতাকা বহন করেন। কেউ কেউ ‘ঘৃণা হত্যা করে’ লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করেন। টিয়ারগার্টেন পার্কে মানুষ মোমবাতি জ্বালিয়ে ফুল রেখে শ্রদ্ধা জানালেন।
সূত্র-বিবিসি




