সেউতায় নজিরবিহীন অভিবাসন সংকট নিয়ে ইইউ-এর জরুরি বৈঠক

ছবি: রয়টার্স
স্পেনের নিয়ন্ত্রণাধীন আফ্রিকান ছিটমহল সেউতায় মরক্কো সীমান্ত দিয়ে নজিরবিহীন গণ-অনুপ্রবেশের ঘটনায় অন্তত ৬৭ জনের প্রাণহানির পর পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে। রবিবার পর্যন্ত নতুন করে বড় ধরনের কোনো অনুপ্রবেশের চেষ্টা হয়নি বলে জানিয়েছে স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সমুদ্রপথে ৫০০ মিটার দীর্ঘ একটি ভাসমান নিরাপত্তা বেড়া নির্মাণের কাজ শুরু করেছে স্পেন।
স্পেন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার থেকে স্থল ও সমুদ্রপথে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা চালায়। আফ্রিকার সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একমাত্র স্থল সীমান্তে এটিই এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় গণ-অনুপ্রবেশের ঘটনা।
সীমান্তের বেড়া ও ব্রেকওয়াটার অতিক্রমের সময় পানিতে ডুবে এবং পদদলিত হয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার সৃষ্টি হয়। স্পেনের অংশে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বড় ধরনের সহিংসতা ছাড়াই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ৪৮ হাজারেরও বেশি মানুষকে পুনরায় মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছে স্পেন।
স্থানীয় অর্থনৈতিক সংকট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর গুজবের জেরে বহু মানুষ এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নেন। স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা জানান, মানবপাচারকারী চক্রগুলো স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের একটি সাম্প্রতিক রায়ের ভুল ব্যাখ্যা ছড়িয়ে অসহায় মানুষদের উসকানি দিয়েছিল।
শনিবার সকাল থেকেই সেউতার ঘন কুয়াশাচ্ছন্ন সমুদ্রতীরে সেনা ও পুলিশ সদস্যদের জোরদার টহল দিতে দেখা গেছে। সীমান্তে সুরক্ষা আরও নিশ্চিত করতে শনিবার সকাল থেকে স্পেনের সিভিল গার্ড সদস্যরা একটি নিউমেটিক ভাসমান প্রতিবন্ধক স্থাপন শুরু করেছেন যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৫০০ মিটার।
নোঙর করা বয়ার সারি, যা পানির ওপরে ১২ থেকে ২৮ ইঞ্চি উঁচু এবং পানির নিচে প্রায় এক মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।সিভিল গার্ডের টহল নৌযান চলাচলের জন্য মাঝখানে একটি নির্ধারিত চ্যানেল রাখা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গ্রান্দে-মারলাস্কা জানিয়েছেন, এক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতির ওপর অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে। তবে সংকট পুরোপুরি না কাটা পর্যন্ত সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। মরক্কোকে ‘বিশ্বস্ত অংশীদার’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এই ধরনের গণ-অনুপ্রবেশের বিষয়ে আগে থেকে কোনো গোয়েন্দা তথ্য ছিল না।
মরক্কোর ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত স্পেনের দুই ছিটমহল সেউতা ও মেলিইয়া দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রধান রুট। সাম্প্রতিক এই ভয়াবহ ঘটনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং মরক্কো সীমান্তে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠায় স্পেনকে সহায়তার লক্ষ্যে শনিবার ইইউ-এর ২২টি সদস্য রাষ্ট্র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে।




