ব্রিটেনে নিষিদ্ধ হওয়ার পথে অবৈধ ইসরায়েলি বসতির পণ্য

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের একটি বাড়িতে ইসরায়েলের পতাকা তুলছেন অবৈধ বসতি স্থাপনকারী। ফাইল ছবি/ রয়টার্স
দখল করা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ব্রিটেন। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সরকার আগামী সেপ্টেম্বরে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন নীতি নিয়ে একটি বড় প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারে। সরকারি ও হোয়াইট হল সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই।
প্রস্তাবগুলোর সবকিছু এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিগুলোয় উৎপাদিত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ নতুন পদক্ষেপের অন্যতম নিশ্চিত অংশ হতে পারে।
নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইসরায়েলের আরও কয়েকজন মন্ত্রীকে আনার বিষয়েও আলোচনা চলছে। এর আগে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় উসকানির অভিযোগে ইসরায়েলের অতি-ডানপন্থী নেতা ইতামার বেন গ্ভির ও বেজালেল স্মোট্রিচের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ব্রিটেন।
ইসরায়েলে ব্রিটিশ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানিতে আরও কড়াকড়ির বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তৎকালীন সরকার ইসরায়েলের জন্য থাকা প্রায় ৩৫০টি অস্ত্র রপ্তানি অনুমতির মধ্যে ২৯টির কার্যকারিতা স্থগিত করেছিল।
গাজায় এসব অস্ত্র আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনে ব্যবহারের ‘স্পষ্ট ঝুঁকি’ রয়েছে বলে তখন জানিয়েছিল সরকার। এবার ব্রিটিশ অস্ত্র রপ্তানির ওপর আরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে কি না, তা বিবেচনা করছে বর্তমান সরকার।
বসতি-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ব্রিটেনের বর্তমান নীতিতে নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবৈধ ইসরায়েলি বসতিতে বিনিয়োগ, কেনাকাটা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। তবে এটি এখনো আইনি নিষেধাজ্ঞা নয়। নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলে বসতি-পণ্যের ক্ষেত্রে সেই অবস্থান বদলে সরাসরি আইনি নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে।
এ নিয়ে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপও রয়েছে। জুনে প্রায় ১৪০ জন লেবার এমপি পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছিলেন। লিবারেল ডেমোক্র্যাটরাও একই দাবি তুলেছে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটিও বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করেছে।
ব্রিটেনের সরকারি অবস্থান, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলো আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ এবং দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথে বড় বাধা। লন্ডনের আশঙ্কা, বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা আরও দুর্বল হবে।
বসতি-পণ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্রিটেন একা নয়। স্পেন ও নেদারল্যান্ডস এরই মধ্যে এ ধরনের বাণিজ্যে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। আয়ারল্যান্ডেও একই ধরনের আইন এগোচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
ব্রিটেন ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পর ইসরায়েলের প্রতি অবস্থান আরও কঠোর করেছে। সেপ্টেম্বরে সম্ভাব্য নতুন পদক্ষেপ কার্যকর হলে সেই পরিবর্তন কূটনৈতিক বক্তব্যের বাইরে গিয়ে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা, ব্যক্তিগত নিষেধাজ্ঞা এবং অস্ত্র রপ্তানি নিয়ন্ত্রণেও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বসতি-পণ্য নিষেধাজ্ঞার বাইরে অন্য প্রস্তাবগুলো এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।






