পোল্যান্ডের সতর্কবার্তা
‘দুর্ঘটনা’ সাজিয়ে ন্যাটোর শক্তি পরীক্ষা করতে পারে রাশিয়া
- ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র ঢুকতে পারে ন্যাটোভুক্ত দেশের ভূখণ্ডে
- পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর আশঙ্কা, ঘটনাকে ‘অনিচ্ছাকৃত’ দেখিয়ে জোটের সম্মিলিত প্রতিরক্ষার অঙ্গীকার কতটা কার্যকর, সেটিই পরীক্ষা করতে চাইতে পারে মস্কো

পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক
যুদ্ধের ঘোষণা থাকবে না, সীমান্তে হয়তো নামবে না ট্যাঙ্কও। একটি ড্রোন উড়ে আসবে, একটি ক্ষেপণাস্ত্র সীমান্ত পেরোবে, তার পর বলা হবে, “ভুল হয়েছে।” পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কের আশঙ্কা, এমন ধারাবাহিক ‘দুর্ঘটনাই’ হতে পারে ন্যাটোর ঐক্য ও প্রতিরোধক্ষমতা পরীক্ষা করার নতুন রুশ কৌশল। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর এই সতর্কবার্তার কথা জানানো হয়েছে।
পোলিশ পার্লামেন্টে টাস্ক বলেছেন, বিভিন্ন গোয়েন্দা মূল্যায়নে এমন পরিকল্পনার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে ইউক্রেনকে সহায়তাকারী দেশ, বিশেষ করে পোল্যান্ডের বিরুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ‘হাইব্রিড হামলা’ চালানো হতে পারে। তাঁর ভাষায়, সর্বশেষ তথ্যগুলো “খুবই সামঞ্জস্যপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য”। তবে কোন কোন গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নের ভিত্তিতে তিনি এই সতর্কতা দিয়েছেন, তা প্রকাশ করা হয়নি।
টাস্কের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ন্যাটোর পঞ্চম অনুচ্ছেদ ঘিরে। ন্যাটোর প্রতিষ্ঠাতা চুক্তির এই ধারায় একটি সদস্যরাষ্ট্রের উপর সশস্ত্র হামলাকে পুরো জোটের বিরুদ্ধে হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আক্রান্ত দেশ সহায়তা চাইলে অন্য সদস্যদের তার পাশে দাঁড়ানোর বাধ্যবাধকতা থাকে, যদিও সেই সহায়তা কী ধরনের হবে, তা প্রতিটি দেশ নিজে নির্ধারণ করতে পারে। ন্যাটোর ইতিহাসে এই পঞ্চম অনুচ্ছেদ এখন পর্যন্ত একবারই প্রয়োগ করা হয়েছে, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার পর।
টাস্কের আশঙ্কা, রাশিয়া এমন ঘটনা ঘটাতে পারে যা সরাসরি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ ঘোষণার পর্যায়ে না পৌঁছেও ক্ষয়ক্ষতি ঘটাবে। পরে মস্কো সেটিকে দুর্ঘটনা বলে দাবি করলে ন্যাটোর সদস্যদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া নিয়ে দ্বিধা তৈরি হতে পারে। তাঁর ভাষায়, লক্ষ্য হতে পারে সদস্যদেশগুলোর মনে এমন ধারণা তৈরি করা যে, পঞ্চম অনুচ্ছেদ বাস্তবের চেয়ে “তাত্ত্বিক বেশি”। বিশেষ করে লাটভিয়া বা লিথুয়ানিয়ার মতো পূর্বাঞ্চলীয় মিত্রকে রক্ষায় অন্য দেশগুলো কতটা এগিয়ে আসবে, সেই প্রশ্ন উসকে দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।
টাস্ক আরও বলেছেন, এমন ঘটনা বারবার ঘটানো হলে তা ন্যাটোকে “অসহায়” হিসেবে দেখানোর হাতিয়ার হতে পারে। তাঁর আশঙ্কা, সরাসরি যুদ্ধের বদলে ছোট ছোট সীমান্ত লঙ্ঘন, নাশকতা, ড্রোন তৎপরতা বা অন্য ধরনের অস্পষ্ট হামলার মাধ্যমে জোটের রাজনৈতিক ঐক্য দুর্বল করার চেষ্টা চলতে পারে।
পোলিশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন শরৎ ও শীত ইউক্রেন যুদ্ধের সবচেয়ে সংকটপূর্ণ সময়গুলোর একটি হতে পারে। রাশিয়া ইউক্রেনে নতুন ধরনের দ্রুতগতির জেটচালিত ড্রোনের ব্যবহার বাড়াচ্ছে বলেও জানিয়েছেন টাস্ক। পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সীমান্তের সামরিক অবকাঠামো শক্তিশালী করছে পোল্যান্ড এবং ইউক্রেনের সঙ্গে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ রাশিয়ার বিরুদ্ধে ড্রোন অনুপ্রবেশ, নাশকতা ও গোপন তৎপরতার অভিযোগ তুলেছে। মস্কো এসব অভিযোগের অনেকটাই অস্বীকার করেছে। টাস্কের নতুন গোয়েন্দা দাবির বিস্তারিত প্রমাণও এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে ন্যাটোর সামনে এখন সূক্ষ্ম এক পরীক্ষা, সম্ভাব্য উসকানি ঠেকাতে প্রস্তুত থাকা, আবার এমন কোনও ভুল প্রতিক্রিয়া না দেখানো যাতে একটি সীমিত ঘটনা বৃহত্তর সংঘাতে রূপ নেয়।



