কানাডাকে সহযোগী সদস্য করতে চাইছে ইইউ

ফ্রান্সের ইউরোপীয় পার্লামেন্টে পৌঁছালে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে স্বাগত জানান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন ও পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট রবার্টা মেটসোলা। ছবি : রয়টার্স
ডোনাল্ড ট্রাম্পের জমানায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যখন সম্পর্কে টানাপড়েন চলছে কানাডার, তখন দেশটিকে সহযোগী সদস্য রাষ্ট্র করতে চাইছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
ইউরোপের দেশগুলো নিয়ে গঠিত ইইউর চুক্তিতে অন্য মহাদেশের কোনো দেশের জন্য এ ধরনের সদস্যপদের বিধান নেই। কিন্তু কানাডার জন্য সেই পথটি খোলার কথা বলেছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন।
ফ্রান্সের স্ত্রাসবুর্গে আজ বুধবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ‘স্টেট অব দ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন’ ভাষণে এ কথা বলেন তিনি।
ফন ডার লায়েনের দৃষ্টিতে, এটি হবে ইউরোপের জন্য অংশীদারত্ব বাড়ানোর কৌশলগত সিদ্ধান্ত। কারণ বৈশ্বিক ব্যবস্থায় ভাঙন দেখা দেওয়ায় এ ধরনের অংশীদারত্বের প্রয়োজন আরও বেড়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) থেকে জলবায়ু পরিবর্তন, আর্কটিক থেকে ভূরাজনীতি—বিভিন্ন বিষয়ে ইউরোপ ও কানাডার দৃষ্টিভঙ্গি একই বলে মনে করেন তিনি। প্রতিরক্ষা, কাঁচামাল ও সরবরাহব্যবস্থার মতো বিষয়েও একসঙ্গে কাজ করার কথা তিনি বলেন।
তবে এসব ছাড়িয়ে ফন ডার লায়েনের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, উভয় পক্ষই গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের অংশীদারত্বকে নতুন করে ভাবা জরুরি। তাই কানাডাকে ইইউর প্রথম সহযোগী সদস্য করার পথ খুলতে আমি আপনার (কানাডার প্রধানমন্ত্রী) সঙ্গে কাজ করতে চাই।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী দেশ কানাডারও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘেঁষতে আপত্তি নেই।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এ সপ্তাহের শুরুতে বলেছিলেন, তার দেশ ইইউর সঙ্গে একটি ‘অনন্য জোট’ গড়তে চায়। তবে ইইউর সদস্য হতে চায় না কানাডা।
কার্নিকে স্ত্রাসবুর্গে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ফন ডার লায়েন। বৃহস্পতিবার সেখানে ভাষণ দেবেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী।
গত মাসে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপড়েন তৈরি হয়। এরপর দুই দেশ পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ করে। এর পরপরই কার্নি ইউরোপ গেলেন।
ফন ডার লায়েন বলেছেন, উৎপাদন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে ইইউ ও কানাডা একসঙ্গে কাজ করবে। এর মধ্যে প্রযুক্তি জোট গঠন, প্রতিরক্ষা শিল্পের সমন্বয় এবং আর্কটিক অঞ্চলকে যৌথ প্রকল্পে পরিণত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তবে ফন ডার লায়েন স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘এটি কারও বিরুদ্ধে নয়, এটি একটি অংশীদারত্ব।’
এর মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়া এড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র : রয়টার্স




