ঝড়ের পর বন্যার শঙ্কা, ভয়ংকর শীতের সতর্কবার্তা ব্রিটেনে
- ঝড় অস্টেনের তাণ্ডবে বিদ্যুৎহীন ১৬ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি
- আসছে আরেক ঝড় বোয়েলো

সংগৃহীত ছবি
ব্রিটেনের আকাশে এখনও শীত নামেনি। অথচ আটলান্টিক থেকে ধেয়ে আসা ঝড় অস্টেন যেন আগেভাগেই শুনিয়ে দিল বিপদের বার্তা। কোথাও বিদ্যুৎ নেই। কোথাও ভেঙে পড়েছে গাছ। বাতিল হচ্ছে ট্রেন। এই দুর্যোগের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সতর্কবার্তা, সামনে আরও বেশি বন্যার শীত অপেক্ষা করতে পারে। প্রশ্ন উঠেছে, প্রকৃতির বদলে যাওয়া রূপের জন্য কতটা প্রস্তুত ব্রিটেন?
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিভারপুলের আইনট্রিতে দাবানল মোকাবিলার জাতীয় সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন বার্নহ্যাম। তিনি বলেছেন, ‘আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করছি, যেখানে অপ্রত্যাশিত ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে।’ তার আশঙ্কা, ‘আমাদের সামনে আরও বেশি বন্যার একটি শীত আসতে পারে।’ তাই ঝুঁকি চিনে আগেই ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
সেই দিনই ঝড় অস্টেন তাণ্ডব চালিয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডে। জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ সংস্থার হিসাবে, সকাল ১১টার কিছু আগে ১৬ হাজারের বেশি বাড়িতে বিদ্যুৎ ছিল না। কর্নওয়ালের বহু বিদ্যালয় বন্ধ রাখা হয় অথবা দেরিতে খোলা হয়। সিলি দ্বীপপুঞ্জের সেন্ট মেরিজ বিমানবন্দরে ঘণ্টায় প্রায় ১২২ কিলোমিটার বেগের দমকা হাওয়া রেকর্ড করা হয়েছে। ইংল্যান্ড, ওয়েলস ও স্কটল্যান্ডের রেলপথেও বিঘ্ন ঘটে। ব্রাইটনের ঐতিহাসিক, বহুদিন পরিত্যক্ত পশ্চিম পিয়ারের একটি অংশ সাগরে ভেঙে পড়ে।
ব্রিটিশ আবহাওয়া দপ্তর মেট অফিস কর্নওয়াল, সিলি দ্বীপপুঞ্জ ও ডেভনের অংশবিশেষে প্রবল বাতাসের জন্য কমলা সতর্কতা জারি করেছিল। ভারী বৃষ্টিতে কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকিও রয়েছে। তবে এখানেই বিপদের শেষ নয়। শনিবার (২৪ অক্টোবর) আসছে দ্বিতীয় ঝড় বোয়েলো। স্কটল্যান্ড, উত্তর আয়ারল্যান্ড ও উত্তর ইংল্যান্ডে শনিবার রাত থেকে রবিবার পর্যন্ত ঘণ্টায় প্রায় ১২৯ কিলোমিটার বেগে দমকা বাতাসের আশঙ্কা রয়েছে।
প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সরকারের নতুন ‘প্রস্তুত থাকুন’ কর্মসূচি। দুর্যোগে পরিষেবা বন্ধ হলে অন্তত তিন দিন চলার মতো খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় জিনিস ঘরে রাখতে বলা হয়েছে। বার্নহামের বক্তব্য, কর্নওয়ালে বিদ্যুৎহীন মানুষের দুর্ভোগই দেখাচ্ছে, এমন প্রস্তুতি কেন জরুরি। বিরোধী কনজারভেটিভ নেত্রী কেমি ব্যাডেনক অবশ্য বলেছেন, শুধু পরামর্শ নয়, নাগরিকদের সুরক্ষায় সরকারকেই আরও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
এদিনের সম্মেলনের পেছনে রয়েছে ভয়াবহ দাবানলের গ্রীষ্ম। সেই অভিজ্ঞতার পর সরকার সামরিক পরিবহনবিমান ও হেলিকপ্টারকে আকাশ থেকে পানি ছিটিয়ে আগুন নেভানোর কাজে প্রস্তুত করার পরিকল্পনা জানিয়েছে। দমকলকর্মীদের সুরক্ষাসামগ্রী এবং বন ও তৃণভূমির ব্যবস্থাপনাও উন্নত করার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে চলতি অর্থবছরে বন্যা প্রতিরক্ষা প্রকল্পে ১৪০ কোটি পাউন্ড বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। কিন্তু একের পর এক ঝড় বুঝিয়ে দিচ্ছে, শুধু বরাদ্দ নয়, প্রস্তুতি পৌঁছাতে হবে সাধারণ মানুষের দরজায়।
ব্রিটিশ আবহাওয়া দপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু মূল্যায়ন বলেছে, উষ্ণায়নের সঙ্গে দেশটিতে শীত আরও সিক্ত হতে পারে, বাড়তে পারে বন্যার ঝুঁকি। তবে বার্নহ্যামের মন্তব্যকে এবারের পুরো শীতের নিশ্চিত পূর্বাভাস ভাবার সুযোগ নেই।
অস্টেনের দাপট কমার আগেই নতুন ঝড়ের আগমনী। সমুদ্রের গর্জন হয়তো একদিন থামবে। কিন্তু মানুষের বাড়ি, বিদ্যুৎ আর নিরাপত্তাকে ঘিরে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার উত্তর কি ঝড় থামলেই মিলবে?



