নিজেদের তদন্তে ‘দোষমুক্ত’ রিফর্ম ইউকে, বাইরে অপেক্ষা পুলিশের রায়ের

ছবি: রয়টার্স
গোপন ক্যামেরায় ধরা পড়েছিল বিদেশি অর্থের সম্ভাব্য পথ নিয়ে কথোপকথন। উঠেছিল ব্রিটেনের রাজনৈতিক অনুদান আইন পাশ কাটানোর অভিযোগ। এক মাস পর নিজেদেরই তদন্তে রিফর্ম ইউকে বলছে, আইন ভাঙেনি দল কিংবা অভিযুক্ত দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তেই শেষ হচ্ছে না গল্প। কারণ একই অভিযোগ নিয়ে এখনও অপরাধ তদন্ত চালাচ্ছে লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ।
বুধবার (০৭ অক্টোবর) চ্যানেল ৪ নিউজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এবং একই দিন স্কাই নিউজের হালনাগাদ খবরে বলা হয়েছে, রিফর্ম ইউকের ২৭ পৃষ্ঠার অভ্যন্তরীণ তদন্তে দলটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ড্যান জুকস ও নীতিবিষয়ক প্রধান জেমস অর আইন ভেঙেছেন, এমন প্রমাণ নাকি পাওয়া যায়নি। তবে তাদের কথাবার্তাকে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে 'ভুল, অসতর্ক এবং এক ক্ষেত্রে অসত্য'।
বিতর্কের শুরু গত ৩ সেপ্টেম্বর। অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সংগঠন ভারবেটিমের সদস্যরা এক ধনী মার্কিন ব্যবসায়ী ও তার ব্রিটিশ ছেলের পরিচয়ে রিফর্মের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। গোপনে ধারণকৃত কথোপকথনে উঠে আসে তিনটি জনমত জরিপের অর্থায়ন এবং বিদেশি উৎস থেকে সম্ভাব্য পাঁচ লাখ পাউন্ড অনুদানের বিষয়। চ্যানেল ৪-এর দাবি ছিল, আলোচনায় বিদেশি অর্থ ব্রিটিশ উৎসের মাধ্যমে দলে পৌঁছানোর সম্ভাব্য পথ নিয়ে কথা হয়েছিল।
রিফর্মের তদন্ত বলেছে, ওই পাঁচ লাখ পাউন্ড কখনও দেওয়া বা গ্রহণ করা হয়নি এবং অর্থ নেওয়ার কোনো চূড়ান্ত সমঝোতাও হয়নি। দলটির দাবি, কোনো অনুদান এলে গ্রহণযোগ্যতা যাচাইয়ের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতো। তিনটি জনমত জরিপ নিয়েও তদন্তের সিদ্ধান্ত, সেগুলো জুকস ব্যক্তিগতভাবে করিয়েছিলেন, দলের পক্ষ থেকে নয়।
তবে নিজেদের কর্মকর্তাদের পুরোপুরি প্রশংসাপত্র দেয়নি তদন্তটি। সাতটি সংস্কার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যৎ অনুদানের বিষয়ে দলের কোষাগারকে লিখিতভাবে জানানো, সম্ভাব্য দাতার পরিচয় আগেই যাচাই এবং ঠিকাদারদের অন্য গ্রাহকের তথ্য প্রকাশের ব্যবস্থাও এর মধ্যে রয়েছে।
রিফর্ম বলেছে, ভারবেটিম 'বেআইনিভাবে' কাজ করেছে বলে তারা মনে করে এবং আইনি ব্যবস্থা নেবে। জুকসও বলেছেন, আইন না ভাঙার সিদ্ধান্তকে তিনি স্বাগত জানান। অন্যদিকে চ্যানেল ৪ জানিয়েছে, তারা নিজেদের সাংবাদিকতার পক্ষে অটল এবং সম্প্রচারের আগে অনুসন্ধানটি বিস্তৃত সম্পাদকীয় ও স্বাধীন আইনি যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে গেছে।
লেবার পার্টির চেয়ার ব্রিজেট ফিলিপসন অবশ্য অভ্যন্তরীণ তদন্তটিকে 'ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা' বলে সমালোচনা করেছেন। তবে চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত এখনও আসেনি। মেট্রোপলিটন পুলিশের তদন্ত চলমান।
তাই রিফর্মের নিজের খাতায় আপাতত অভিযোগের পাশে টানা হয়েছে একটি দাগ। কিন্তু যে প্রশ্ন গোপন ক্যামেরা তুলেছিল, তার শেষ উত্তর এখনও দলের কার্যালয়ে নয়, অপেক্ষা করছে স্বাধীন তদন্তের দরজায়।



