অবৈধ পথে ইতালি গেলে ফিরতে হবে দেশে, শেনজেনজুড়ে নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি
- অবৈধ অভিবাসনে ‘জিরো টলারেন্স’ ইতালির, বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসন ও শেনজেন নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি

অবৈধ অভিবাসকে ফেরত পাঠাচ্ছে ইতালি সরকার।
ইউরোপে অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে ইতালি। অনিয়মিতভাবে প্রবেশ ও বৈধ অনুমতি ছাড়া অবস্থানকারীদের প্রত্যাবাসনের পাশাপাশি শেনজেনভুক্ত দেশগুলোতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি সম্পর্কে বাংলাদেশিদের সতর্ক করেছে ঢাকায় অবস্থিত ইতালি দূতাবাস।
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, দূতাবাসের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বার্তায় ইউরোপে অবৈধ প্রবেশ ও অবৈধভাবে অবস্থানের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতির কথা তুলে ধরা হয়। এতে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও বৈধ অভিবাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
দূতাবাসের বার্তায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যথাযথ ভিসা ছাড়া ইতালিতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে দালাল, মানব পাচারকারী বা চোরাকারবারিদের অর্থ প্রদান অবৈধ। এ ধরনের পথে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করলে দেশে প্রত্যাবাসিত হওয়ার পাশাপাশি শেনজেনভুক্ত দেশগুলোতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার মুখেও পড়তে হতে পারে।
বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে দ্য ডেইলি স্টার-এর ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর এক প্রতিবেদনেও তথ্য উঠে এসেছে। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইতালি, গ্রিস ও সাইপ্রাস থেকে ২৯ জন বাংলাদেশিকে ফ্রন্টেক্সের সহায়তায় একটি বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ইতালি থেকে ১৬ জন, গ্রিস থেকে ৯ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ৪ জন ছিলেন।
ইতালি দূতাবাসের এই সতর্কবার্তা এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন ইউরোপে যাওয়ার আশায় দালালের মাধ্যমে বিপজ্জনক পথে যাত্রা এবং অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। অবৈধ পথে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি বা আটক হওয়ার ঝুঁকিই তৈরি করে না, বরং ভবিষ্যতে ইউরোপে প্রবেশের সুযোগও সীমিত করতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব ঝুঁকি এড়াতে বিদেশে যাওয়ার আগে ভিসা, কাজের অনুমতি ও চাকরির চুক্তি যাচাই করা জরুরি। দালালের প্রলোভনে না পড়ে বৈধ অভিবাসনপথ অনুসরণ করার পাশাপাশি মানব পাচারচক্র সম্পর্কে সতর্ক থাকাও প্রয়োজন।



