রাজপরিবার নিয়ে হাসির ঝড়
ব্রিটেনে ফেরার খবরে বিদ্রুপের শিকার হ্যারি-মেগান

ব্যঙ্গের নিশানায় প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কল
ব্রিটেনে ফেরার খবর নিয়ে আলোচনার মধ্যেই এবার ব্যঙ্গের নিশানায় প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কল। জনপ্রিয় কমেডি অনুষ্ঠান ‘স্যাটারডে নাইট লাইভ ইউকে’ (এসএনএল)-এর দ্বিতীয় মরসুমের প্রথম পর্বে সাসেক্স দম্পতির যুক্তরাজ্যে প্রত্যাবর্তন নিয়ে তৈরি একটি স্কেচে রাজপরিবার, নেটফ্লিক্স চুক্তি এবং তাদের অতীত বিতর্ক... সবকিছুকেই হাসির উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
রবিবার প্রকাশিত ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানের ‘কোল্ড ওপেন’-এ অভিনেতা জ্যাক শেপ ও আয়োডে বামবগায়ে যথাক্রমে হ্যারি ও মেগানের চরিত্রে অভিনয় করেন। স্কেচে দেখানো হয়, তারা বালমোরাল প্রাসাদে রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানি ক্যামিলার সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন।
স্কেচে হ্যারির চরিত্র রাজা চার্লসকে বলেন, “ড্যাডি, আমি ফিরে এসেছি।” এরপর রাজা চরিত্রে থাকা অভিনেতা ল্যারি ডিন মজা করে বলেন, “আমাকে বলো না, তোমার নেটফ্লিক্সের সব টাকা শেষ হয়ে গেছে?” উত্তরে হ্যারির চরিত্র বলে, “এটা ৬০ মিলিয়ন ডলার ছিল। কত দিন চলার কথা ছিল?”
মেগানের চরিত্র নিয়েও ব্যঙ্গ করা হয়। রানি ক্যামিলার চরিত্রে থাকা এমা সিডি তাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “সুন্দরী মেগান, আগের মতোই বাদামি।” এই মন্তব্যটি ২০২১ সালে অপরাহ উইনফ্রের সঙ্গে হ্যারি-মেগানের বহুল আলোচিত সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ টেনে করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ওই সাক্ষাৎকারে তারা অভিযোগ করেছিলেন, রাজপরিবারের এক সদস্য তাদের সন্তান আর্চির গায়ের রং কতটা গাঢ় হতে পারে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
স্কেচে মেগানের জীবনযাপন ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড নিয়েও রসিকতা করা হয়। তার নেটফ্লিক্স অনুষ্ঠান এবং ব্র্যান্ড-সংক্রান্ত কাজকে ব্যঙ্গের বিষয় করা হয়েছে। একই সঙ্গে হ্যারির পক্ষ থেকে রাজপরিবারের কাছে আবার কোনও বিশেষ মর্যাদা বা সুবিধা চাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েও হাস্যরস তৈরি করা হয়।
অনুষ্ঠানের এই পর্বে শুধু হ্যারি-মেগান নয়, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকেও ব্যঙ্গ করা হয়েছে। নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার দ্রুত উত্থান এবং রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও রসিকতা করা হয়।
হ্যারি ও মেগান ২০২০ সালে রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। সম্প্রতি তাদের ব্রিটেনে ফিরে আসা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজপরিবারের পক্ষ থেকে তাদের এখনও কর্মরত রাজপরিবারের সদস্য নয়, বরং ব্যক্তিগত নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।
তবে এসএনএলের এই ব্যঙ্গ নিয়ে হ্যারি বা মেগানের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ব্রিটিশ রাজপরিবারকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ জনপ্রিয় সংস্কৃতির অংশ হয়ে থাকলেও, সাসেক্স দম্পতির ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, রাজকীয় মর্যাদা এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে তাদের টানাপোড়েন এই ধরনের কৌতুককে আরও আলোচিত করে তুলেছে।



