আমেরিকার বাইরে নতুন নিরাপত্তা বলয়
ব্রিটেনের সামরিক জোটে ঢুকতে চায় কানাডা
- জয়েন্ট এক্সপিডিশনারি ফোর্সে (জেইএফ) ঢুকতে চায় অটোয়া
- ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদারের বার্তা কারনির

দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর প্রতিরক্ষা কৌশলের পাশাপাশি এবার ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে নতুন সেতু গড়তে চাইছে কানাডা
আটলান্টিকের দুই প্রান্তে বদলে যাচ্ছে নিরাপত্তার সমীকরণ। দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর প্রতিরক্ষা কৌশলের পাশাপাশি এবার ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে নতুন সেতু গড়তে চাইছে কানাডা। সেই লক্ষ্যেই ব্রিটেনের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জয়েন্ট এক্সপিডিশনারি ফোর্স (জেইএফ)-এ যোগ দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে অটোয়া।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনির দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে জেইএফ-এ সদস্য হওয়ার আবেদন করেছে এবং এই উদ্যোগে ব্রিটেনের সমর্থনকে স্বাগত জানিয়েছে।
কারনির দপ্তরের ভাষায়, “প্রধানমন্ত্রী কারনি ঘোষণা করেছেন যে কানাডা আনুষ্ঠানিকভাবে জয়েন্ট এক্সপিডিশনারি ফোর্সে যোগ দেওয়ার আবেদন করেছে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে কানাডার অংশগ্রহণের জন্য যুক্তরাজ্যের সমর্থনকে স্বাগত জানিয়েছেন।”
জেইএফ মূলত একটি দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল সামরিক সহযোগিতা কাঠামো। বর্তমানে এতে রয়েছে যুক্তরাজ্য, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে ও সুইডেন–মোট ১০টি ন্যাটো সদস্য দেশ। সংকটকালে দ্রুত সামরিক মোতায়েন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং যৌথ প্রশিক্ষণ এই জোটের মূল লক্ষ্য।
কানাডা অবশ্য ন্যাটোর সদস্য। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে অটোয়া যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করতে চাইছে। ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক সহযোগিতা সেই কৌশলেরই অংশ বলে জানিয়েছে কারনি সরকার।
এই পদক্ষেপের আগে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সঙ্গে বৈঠক করেন। দুই নেতা প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন। এর মধ্যে ছিল গ্লোবাল কমব্যাট এয়ার প্রোগ্রাম (জিসিএপি), যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির আন্তর্জাতিক প্রকল্প, যেখানে কানাডা ২০২৬ সালে পর্যবেক্ষক হিসেবে যুক্ত হয়েছে।
ব্রিটিশ সরকারও কানাডার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গভীর করার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর '১০ ডাউনিং স্ট্রিট' জানিয়েছে, বার্নহ্যাম ও কারনি প্রতিরক্ষা শিল্প, কৌশলগত প্রযুক্তি এবং ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, কানাডার এই পদক্ষেপ শুধু সামরিক জোটে যোগদানের বিষয় নয়; এটি বদলে যাওয়া বৈশ্বিক নিরাপত্তা বাস্তবতার প্রতিফলন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মধ্যে পশ্চিমা দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন কাঠামো তৈরি করছে।
ব্রিটেনের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। ইউরোপের বাইরে থাকা কানাডার মতো ঘনিষ্ঠ মিত্রকে জেইএফ-এ যুক্ত করার মাধ্যমে লন্ডন জোটটির পরিসর বাড়াতে পারবে। অন্যদিকে অটোয়ার জন্য এটি ইউরোপীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হওয়ার নতুন পথ খুলে দিতে পারে।
তবে এই আবেদন এখনও চূড়ান্ত সদস্যপদ নয়। জেইএফ-এর বর্তমান সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও অনুমোদনের পরই পরবর্তী ধাপ নির্ধারিত হবে। কিন্তু একটি বিষয় স্পষ্ট, বিশ্ব রাজনীতির নতুন টানাপোড়েনে কানাডা ও ব্রিটেন প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করার পথে এগোচ্ছে।



