তিনবারের মেয়র সাদিক খানের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ
লন্ডন ভোটে উঠে আসছেন রিফর্মের লায়লা

সংগৃহীত ছবি
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে লন্ডনের মসনদে থাকা সাদিক খান কি এবার কঠিন লড়াইয়ের মুখে? ২০২৮ সালের লন্ডন মেয়র নির্বাচনের আগে প্রকাশিত নতুন এক সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, বর্তমান মেয়রের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে আসছেন রিফর্ম ইউকের প্রার্থী লায়লা কানিংহাম।
চলতি মাসে প্রকাশিত গ্লোবাল ডাটা প্রতিষ্ঠান সাভান্তা-র এই সমীক্ষা করা হয়েছিল কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের মাইল এন্ড ইনস্টিটিউটের জন্য। সেখানে দেখা গেছে, লেবার এখনও এগিয়ে থাকলেও রিফর্ম ইউকে কনজারভেটিভদের পিছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে।
সমীক্ষায় লেবারের সম্ভাব্য সমর্থন রয়েছে ৩৩ শতাংশ, রিফর্ম ইউকের ২০ শতাংশ এবং কনজারভেটিভদের ১৮ শতাংশ। গ্রিন পার্টি পেয়েছে ১৪ শতাংশ এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা ১০ শতাংশ সমর্থন।
এই ফলাফল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ লন্ডনের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান লড়াই ছিল লেবার ও কনজারভেটিভদের মধ্যে। কিন্তু নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম ইউকের উত্থান এখন রাজধানীর রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে শুরু করেছে।
দশ বছর ধরে লন্ডনের মেয়র সাদিক খান
পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ রাজনীতিক সাদিক খান ২০১৬ সালের মে মাসে প্রথমবার লন্ডনের মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর ২০২১ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনেও জয়ী হয়ে তিনি টানা তিন মেয়াদে ব্রিটেনের রাজধানীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি কনজারভেটিভ প্রার্থীকে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো মেয়র হন। এর মাধ্যমে তিনি লন্ডনের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকারী মেয়রদের একজন হয়ে উঠেছেন।
এ বার ২০২৮ সালের নির্বাচনে তিনি লড়াই করতে পারেন চতুর্থ মেয়াদের জন্য। তবে নতুন সমীক্ষা বলছে, আগের মতো একতরফা জয় এবার সহজ নাও হতে পারে।
কে এই লায়লা কানিংহাম?
রিফর্ম ইউকের লন্ডন মেয়র প্রার্থী লায়লা কানিংহাম আগে যুক্ত ছিলেন কনজারভেটিভ পার্টির সঙ্গে। পরে তিনি দল পরিবর্তন করে রিফর্ম ইউকে-তে যোগ দেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তাকে ২০২৮ সালের লন্ডন মেয়র নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
কানিংহামের প্রচারের মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে লন্ডনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অভিবাসন নীতি এবং সাদিক খানের কিছু সিদ্ধান্তের বিরোধিতা। বিশেষ করে ইউএলইজেড (আল্ট্রা লো এমিশন জোন) নীতি বাতিলের দাবিকে তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
রিফর্মের দাবি, লন্ডনের বহু মানুষ বর্তমান প্রশাসনের বিকল্প খুঁজছেন। তাদের মতে, অপরাধ বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং পরিবহণ নীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষই নতুন রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি করছে।
সাদিকের সামনে কী চ্যালেঞ্জ?
সাদিক খানের জনপ্রিয়তা থাকলেও তার প্রশাসন নিয়ে বিতর্ক কম হয়নি। বিশেষ করে ইউএলইজেড সম্প্রসারণ, লন্ডনের পরিবহণ খরচ এবং অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধীরা তাকে আক্রমণ করেছে।
রিফর্ম ইউকেও এই বিষয়গুলোকেই সামনে রেখে প্রচার চালাতে চাইছে। দলটির লক্ষ্য কনজারভেটিভ ভোটব্যাঙ্কে ভাগ বসানো এবং সাদিক-বিরোধী ভোটকে নিজেদের দিকে টেনে আনা।
তবে লেবারের শক্তি এখনও যথেষ্ট। সমীক্ষায় দল এগিয়ে রয়েছে এবং বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে পর্যন্ত লেবারের সংগঠন ও সাদিক খানের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বড় ভূমিকা নিতে পারে।
কনজারভেটিভদের জন্য অশনিসংকেত
সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে কনজারভেটিভদের জন্য। একসময় লন্ডনে লেবারের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল টোরিরা। কিন্তু নতুন সমীক্ষায় রিফর্ম ইউকে তাদের পিছনে ফেলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি রিফর্ম কনজারভেটিভদের ভোটের বড় অংশ নিজেদের দিকে টেনে নিতে পারে, তবে ২০২৮ সালের নির্বাচন লন্ডনে নতুন রাজনৈতিক যুগের সূচনা করতে পারে।
সামনে লড়াই সাদিক বনাম রিফর্ম?
যদিও ভোটের এখনও প্রায় দুই বছর বাকি, তবু সমীক্ষার ফল একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, লন্ডনের রাজনীতি আর শুধু লেবার বনাম কনজারভেটিভের মধ্যে আটকে নেই।
একদিকে এক দশকের অভিজ্ঞতা নিয়ে মাঠে নামবেন সাদিক খান, অন্যদিকে পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে লড়াইয়ে থাকবেন লায়লা কানিংহাম।
২০২৮ সালের লন্ডন মেয়র নির্বাচন তাই শুধু একজন মেয়র বেছে নেওয়ার লড়াই নয়; এটি হতে পারে লন্ডনের রাজনৈতিক দিক পরিবর্তনের পরীক্ষাও।






