অশান্তির আশঙ্কায় কড়া পদক্ষেপ
ব্রিটেনে বিক্ষোভকারীদের মুখ ঢাকায় নিষেধাজ্ঞা
- অভিবাসনবিরোধী সমাবেশ ঘিরে উত্তেজনা
- পুলিশ বলছে: সহিংসতা, ভয় দেখানো ও অপরাধ ঠেকাতেই এই ব্যবস্থা

অভিবাসনবিরোধী একটি পরিকল্পিত বিক্ষোভকে ঘিরে উত্তেজনার আশঙ্কায় ইংল্যান্ডের পোর্টসমাউথে মুখ ঢাকার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পুলিশ।
বিক্ষোভের অধিকার থাকবে কিন্তু মুখ ঢেকে পরিচয় গোপন করে অশান্তি তৈরির সুযোগ নয়, এই বার্তাই দিল ব্রিটেন৷ অভিবাসনবিরোধী একটি পরিকল্পিত বিক্ষোভকে ঘিরে উত্তেজনার আশঙ্কায় ইংল্যান্ডের পোর্টসমাউথে মুখ ঢাকার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে পাল্টা বিক্ষোভেও এই নিয়ম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার ইউরোনিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হ্যাম্পশায়ার পুলিশ এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তাদের বক্তব্য, সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় মুখ ঢাকা অবস্থায় বিক্ষোভকারীদের মধ্যে থেকে ভয় দেখানো, বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতার অভিযোগ সামনে এসেছে। তাই নতুন ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো, “সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অপরাধের সুযোগ কমানো”।
পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার পোর্টসমাউথে একটি অভিবাসনবিরোধী সমাবেশ এবং তার পাল্টা একটি বিক্ষোভ হওয়ার কথা রয়েছে। ওই কর্মসূচিকে সামনে রেখেই মুখ ঢাকার ওপর এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, এই নিয়ম কোনও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে নয়; উপস্থিত সব পক্ষের ক্ষেত্রেই এটি সমানভাবে প্রয়োগ করা হবে।
হ্যাম্পশায়ার পুলিশের সহকারী প্রধান কনস্টেবল পল বার্তোলোমিও বলেছেন, এই ক্ষমতা “বিক্ষোভ বন্ধ করার জন্য নয়”, বরং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সুযোগ বজায় রেখে অপরাধ ও বিশৃঙ্খলা ঠেকানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই পুলিশের প্রধান লক্ষ্য।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে গত সপ্তাহের একাধিক উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা। এর আগে ডোভার বন্দরে মুখ ঢাকা কয়েকশো অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভকারী রাস্তা অবরোধ করেছিলেন। পরে পোর্টসমাউথেও একই ধরনের বিক্ষোভ হয়, যেখানে ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের স্থানান্তর ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, যানবাহনের ক্ষতি এবং কয়েকজন কর্মকর্তার আহত হওয়ার ঘটনাও সামনে আসে।
ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকেও ওই ঘটনার নিন্দা জানানো হয়েছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ গণতন্ত্রের মৌলিক অধিকার, কিন্তু তা কখনও বিশৃঙ্খলা বা আইনভঙ্গের পর্যায়ে যেতে পারে না।
এর আগে ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ পুলিশকে বিক্ষোভে মুখ ঢাকার বিরুদ্ধে নতুন ক্ষমতা ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি সতর্ক করেছিলেন, কিছু গোষ্ঠী নতুন কৌশলে ভয় ও চাপ তৈরির চেষ্টা করছে। পুলিশ কর্মকর্তাদের আরও উন্নত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
ব্রিটেনে অভিবাসন এখন অন্যতম বড় রাজনৈতিক ইস্যু। ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে ছোট নৌকায় অভিবাসীদের আগমন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। একদিকে সরকার সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার কথা বলছে, অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো আশ্রয়প্রার্থীদের অধিকার রক্ষার দাবি জানাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মুখ ঢাকার ওপর নিষেধাজ্ঞা শুধু একটি পুলিশি পদক্ষেপ নয়; এটি ব্রিটেনে অভিবাসন নিয়ে বাড়তে থাকা সামাজিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনারও প্রতিফলন। আগামী দিনে সরকারকে একদিকে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, অন্যদিকে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের গণতান্ত্রিক অধিকারও বজায় রাখতে হবে।



