পর্তুগালে অনিয়মিত বাংলাদেশিদের স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়ার নোটিশ

প্রতীকী ছবি
পর্তুগাল বিদেশি নাগরিকদের স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়ার নোটিশ দেওয়ার সংখ্যা এক বছরে রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। ২০২৫ সালে দেশটিতে মোট ২৩ হাজার ১৩৩টি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকের সংখ্যা ২ হাজার ৯৩৪ জন, যা বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
পর্তুগালের অভিবাসন ও আশ্রয় সংস্থা এআইএমএ -এর ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ২০২৫ সালের অভিবাসন ও আশ্রয় প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে পর্তুগালে স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল মাত্র ৪৪৬টি । এক বছরের ব্যবধানে তা বেড়ে ২৩ হাজার ১৩৩টিতে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ এক বছরে নোটিশের সংখ্যা প্রায় ৫২ গুণ বেড়েছে।
২০২৫ সালে সবচেয়ে বেশি নোটিশ পেয়েছেন ভারতের নাগরিকেরা, ৩ হাজার ৯৮৪টি। এরপর বাংলাদেশি নাগরিকদের ২ হাজার ৯৩৪টি, পাকিস্তানের নাগরিকদের ১ হাজার ৮৯১টি, নাইজেরিয়ার ১ হাজার ৯৫টি এবং আলজেরিয়ার নাগরিকদের ১ হাজার ১৫টি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
এআইএমএ-এর নিয়ম অনুযায়ী, স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়ার নোটিশ বা NAV হলো অনিয়মিত অবস্থায় থাকা কোনো বিদেশি নাগরিককে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পর্তুগাল ছাড়ার সরকারি নির্দেশনা। এটি সরাসরি বহিষ্কার বা ডিপোর্টেশন নয় এবং নোটিশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কাউকে জোর করে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয় না।
এআইএমএ বলছে, আগের কয়েক বছরে স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়ার নোটিশের সংখ্যা কমার যে প্রবণতা ছিল, ২০২৫ সালের এই বৃদ্ধি তার ব্যতিক্রম। দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ আবেদন নিষ্পত্তি ও নিয়মিতকরণ প্রক্রিয়া জোরদার করার পাশাপাশি প্রশাসনিক ও পুলিশি তদারকি বাড়ানোর কারণেও নোটিশের সংখ্যা বেড়েছে।
স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়ার নোটিশ বাড়লেও পর্তুগালে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা বাড়ছে। ২০২৫ সালের শেষে দেশটিতে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ছিল ১৫ লাখ ৮৫ হাজার ৮৫৪ জন । দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৪ শতাংশ এখন বিদেশি নাগরিক।
এদিকে পর্তুগালে পরিবার পুনর্মিলনের ২৪ হাজার ৪৭৬টি আবেদন সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়ার নোটিশের পাশাপাশি পরিবার পুনর্মিলনের মাধ্যমে নতুন বিদেশি নাগরিকের পর্তুগালে আসার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
২০২৫ সালে পর্তুগালের অভিবাসন ব্যবস্থাপনায়ও বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। আবাসন অনুমতিপত্র নবায়নের জন্য ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু ও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ১৫ অক্টোবর থেকে মেয়াদ শেষ হওয়া আবাসন অনুমতিপত্রের স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বাড়ানোর পুরোনো ব্যবস্থা বন্ধ করার কথা জানিয়েছে এআইএমএ।



