নেপাল-তিব্বতের ভয়াবহ বন্যায় দুই পর্তুগিজ নাগরিক নিখোঁজ

ভয়াবহ এই দুর্যোগে বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রীও নিখোঁজ রয়েছেন।
নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর দুই পর্তুগিজ নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের একজন পুরুষ ও একজন নারী।
এর আগে গতকাল একজন পর্তুগিজ নারীর নিখোঁজ হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। পরে পর্তুগালের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিপি একটি কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে এবং তার স্বামী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে পর্তুগালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা অন্য কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেনি। ফলে সরকারি হিসাবে তিনি এখনো নিখোঁজ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছেন।
ভয়াবহ এই দুর্যোগে বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রীও নিখোঁজ রয়েছেন। প্রাথমিকভাবে নেপালি কর্তৃপক্ষ ৪০৩ জন নিখোঁজ থাকার কথা জানিয়েছিল, যাদের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক। পরে বিভিন্ন এলাকায় অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান বিস্তৃত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়ছে।
বন্যায় বহু সড়ক, সেতু ও যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গত এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের অবস্থান শনাক্ত করতেও জটিলতা দেখা দিয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো হেলিকপ্টার ও স্থলপথে বিভিন্ন এলাকায় অনুসন্ধান চালাচ্ছে। আহত ও উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের স্থানীয় হাসপাতাল ও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
দুর্গত অঞ্চলটি বিদেশি পর্যটক, ট্রেকার ও তীর্থযাত্রীদের কাছে জনপ্রিয়। দুর্যোগের সময় সেখানে বিভিন্ন দেশের বহু নাগরিক অবস্থান করছিলেন। এ কারণে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকার ও দূতাবাস স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নিজ নিজ নাগরিকদের অবস্থান ও নিরাপত্তার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে।
পর্তুগালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিখোঁজ দুই নাগরিককে ঘিরে চলমান অনুসন্ধান কার্যক্রম তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তাদের সম্পর্কে নতুন কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেলে তা সংশ্লিষ্ট পরিবার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জনসাধারণকে জানানো হবে।







