বন্ধুর অ্যাকাউন্টেই ফাঁদ
ব্রিটেনে সামাজিক মাধ্যম দখল করে প্রতারণায় চুরি বেড়েছে ৪০০ শতাংশ
- ‘টিকিট আছে’, বন্ধুর বার্তাতেই সর্বনাশ! ব্রিটেনে নতুন প্রতারণার জাল
- ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের পরিচিত মুখেই প্রতারণা, এক বছরে ক্ষতি পাঁচ গুণ

প্রতীকী ছবি
প্রতারক যদি অচেনা হয়, সন্দেহ জাগে। কিন্তু সেই একই বার্তা যদি আসে নিজের বন্ধু, ভাই কিংবা সন্তানের অ্যাকাউন্ট থেকে? ব্রিটেনে এখন ঠিক এই বিশ্বাসকেই অস্ত্র বানাচ্ছে সাইবার অপরাধীরা। মানুষের ই-মেইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট দখল করে পরিচিতজন সেজে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় এক বছরে নথিভুক্ত আর্থিক ক্ষতি চার শতাধিক শতাংশ বেড়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ ধরনের প্রতারণায় মোট ৬৩ লাখ পাউন্ড চুরির অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে। আগের অর্থবছরে অঙ্কটি ছিল মাত্র ১২ লাখ পাউন্ড। তথ্যটি দিয়েছে সিটি অব লন্ডন পুলিশের পরিচালিত জাতীয় প্রতারণা প্রতিবেদন ব্যবস্থা ‘রিপোর্ট ফ্রড’।
প্রতারকদের অন্যতম বড় অস্ত্র এখন ভুয়া কনসার্ট বা অনুষ্ঠান টিকিট। প্রথমে কারও ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক বা ই-মেইল অ্যাকাউন্ট দখল করা হয়। এরপর সেই ব্যক্তির পরিচয়ে তার বন্ধু, আত্মীয় ও সহকর্মীদের কাছে জনপ্রিয় অনুষ্ঠানের টিকিট বিক্রির প্রস্তাব পাঠানো হয়। পরিচিত মানুষের অ্যাকাউন্ট দেখে সন্দেহ কম হওয়ায় অনেকেই সরাসরি টাকা পাঠিয়ে দেন।
এমনই এক ঘটনায় এক নারীর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ওয়েম্বলিতে ওয়েসিস ব্যান্ডের কনসার্টের ভুয়া টিকিট বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। তাঁর বন্ধু ও পরিচিতদের কাছ থেকে প্রায় ১ হাজার ৪০০ পাউন্ড হাতিয়ে নেয় প্রতারকেরা। ভুক্তভোগীর ভাষ্য, হ্যাকাররা এত নিখুঁতভাবে তাঁর পরিচয়ে কথা বলেছিল যে ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাও বুঝতে পারেননি তাঁরা আসলে অপরাধীর সঙ্গে কথা বলছেন।
আরেকটি পরিচিত কৌশল ‘হাই মাম’ প্রতারণা। হোয়াটসঅ্যাপ বা খুদে বার্তায় প্রতারক নিজেকে কারও ছেলে বা মেয়ে পরিচয় দিয়ে জানায়, ফোন হারিয়েছে বা নতুন নম্বর ব্যবহার করছে। কয়েকটি স্বাভাবিক কথাবার্তার পর জরুরি বিল, ভাড়া বা বিপদের কথা বলে টাকা চায়। স্যান্টান্ডারের তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের প্রতারণায় ছেলে পরিচয় দেওয়া অপরাধীরাই সবচেয়ে বেশি সফল হয়েছে।
রিপোর্ট ফ্রডের প্রধান সুপারিনটেনডেন্ট আমান্ডা উলফ বলেছেন, অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়া “শুধু সাইবার সমস্যা নয়, এটি ব্যক্তিগত”। একটি অ্যাকাউন্ট দখলের পর অপরাধীরা পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও সহকর্মীদের বিশ্বাস কাজে লাগিয়ে আরও প্রতারণা চালাতে পারে।
তবে ৪০০ শতাংশ বৃদ্ধিকে সরাসরি অপরাধ পাঁচ গুণ বেড়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। নতুন রিপোর্টিং ব্যবস্থায় তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি বদলেছে। ২০২৫-২৬ সালে অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ৪৪ হাজারের বেশি অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে এবং ২ হাজার ৩২৫টি ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির কথা জানানো হয়েছে। পুলিশও বলেছে, নতুন ব্যবস্থার কারণে আগের বছরের সঙ্গে সরাসরি তুলনায় সতর্কতা প্রয়োজন।
এখন নাগরিকদের পাসওয়ার্ডের বদলে সম্ভব হলে ‘পাসকি’ ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে রিপোর্ট ফ্রড। এতে ফোন বা কম্পিউটারের সঙ্গে আঙুলের ছাপ কিংবা মুখের পরিচয় ব্যবহার করে লগইন যাচাই করা হয়। পাশাপাশি পরিচিত কারও অ্যাকাউন্ট থেকেও টাকা চাওয়া হলে অন্য নম্বরে ফোন করে পরিচয় নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কারণ নতুন প্রতারণার সবচেয়ে বড় শক্তি প্রযুক্তি নয়, বিশ্বাস। আর অপরাধীরা এখন সেই বিশ্বাসের মুখোশটাই চুরি করছে।



