ওষুধে রুখবে অপরাধ!

সংগৃহীত ছবি
যৌন অপরাধীদের ফের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি চালু করতে চলেছে ব্রিটেন। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের কারাগারে থাকা কিছু যৌন অপরাধীকে যৌন তাড়না নিয়ন্ত্রণকারী ওষুধ দেওয়ার কর্মসূচি আরও বড় পরিসরে চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। এটি বাস্তবায়িত হলে ৩ হাজার ৭৫০ জন বন্দি এই চিকিৎসার আওতায় আসতে পারেন। একটি সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, স্বেচ্ছায় এ ধরনের ওষুধ ব্যবহারের সুযোগ আরও বাড়াতে আগ্রহী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সরকার। কারাগারে বন্দিদের বাড়তি চাপ কমানোর চেষ্টার অংশ হিসেবেই নেওয়া হচ্ছে এ উদ্যোগ। যার লক্ষ্য শাস্তি দেওয়া নয়, বরং যেসব অপরাধীর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বা নিয়ন্ত্রণহীন যৌন চিন্তা ও তাড়না অপরাধের সঙ্গে যুক্ত, তাদের আচরণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করা। যদিও চিকিৎসাপদ্ধতিটি নিয়ে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে নৈতিক ও চিকিৎসাগত বিতর্ক। বর্তমানে ‘মেডিকেশন টু ম্যানেজ প্রবলেম্যাটিক সেক্সুয়াল অ্যারাউজাল’ (এমএমপিএসএ) নামে একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচি ১০টি কারাগারে চলছে। আগামীতে কারাগারের সংখ্যা ২০টিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।এক্ষেত্রে বন্দিদের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হতে পারে এসএসআরআই ধরনের ওষুধ। যার মধ্যে রয়েছে সারট্রালিন, যা কিছু ক্ষেত্রে অনিয়ন্ত্রিত যৌন চিন্তা কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ব্যবহার করা হতে পারে অ্যান্টি-অ্যান্ড্রোজেন ওষুধ, যা পুরুষ হরমোন টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমিয়ে যৌন আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
কয়েকজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলেছে গার্ডিয়ান। তারা বলছেন, এই পদ্ধতি সব অপরাধীর ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না। যেসব অপরাধের পেছনে রাগ, হিংস্রতা, ক্ষমতার অপব্যবহার বা মাদকাসক্তির মতো কারণ রয়েছে, সেখানে শুধু যৌন তাড়না কমানোর ওষুধ যথেষ্ট নয়। যৌন অপরাধীদের নিয়ে কাজ করা একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের সহ-প্রধান তদন্তকারী উইন্ডার বললেন, ‘এটি বাধ্যতামূলক করা হলে অপরাধীদের আস্থা নষ্ট হবে। এমনকি অপব্যবহারের ঝুঁকিও রয়েছে।’
ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের বিভিন্ন কারাগারে প্রায় ১৫ হাজার বন্দি যৌন অপরাধের সাজা ভোগ করছেন। প্রতি মাসে গড়ে ৮৫০ জনেরও বেশি পুরুষকে অনলাইনে শিশু যৌননিপীড়নের অপরাধে জড়িত থাকার সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। ফলে কারাগারগুলোর ধারণক্ষমতায়ও সংকট তৈরি হচ্ছে। সরকার মনে করছে, কার্যকর পুনর্বাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যতে অপরাধের হার কমানো সম্ভব হতে পারে। কমতে পারে বন্দির সংখ্যাও।
তবে সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে— এই চিকিৎসা স্বেচ্ছায় হবে নাকি মুক্তির শর্ত হিসেবে বাধ্যতামূলক করা হবে, তা নিয়ে। কয়েকটি দেশে ‘রাসায়নিক দমন’ পদ্ধতি বাধ্যতামূলক হলেও ব্রিটেনের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জোর করে এমন চিকিৎসা চালু করলে মানবাধিকার ও চিকিৎসকের নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাদের ভাষ্য, ওষুধ একা কোনো অপরাধের মূল কারণ দূর করতে পারে না; প্রয়োজন মনস্তাত্ত্বিক চিকিৎসা, নজরদারি এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন।






