চীনের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটকে জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি ঘোষণা মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রীর

কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের সদর দপ্তরে কয়েকজন শিক্ষার্থী। ফাইল ছবি / রয়টার্স
চীনের অর্থায়নে পরিচালিত কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে পেন্টাগন। মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে হেগসেথ অভিযোগ করেছেন, বিধিনিষেধের মুখে পড়ার পর কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটগুলো নাম ও পরিচয় বদলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে।
হেগসেথ বলেছেন, ‘৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিন্ন নাম ও কাঠামোয় ৮০টি নতুন প্রচারকেন্দ্র গড়ে উঠেছে। কিন্তু তাদের উদ্দেশ্য একই—মেধাস্বত্ব চুরি করা এবং মার্কিন শিক্ষার্থীদের চিন্তাধারায় অনুপ্রবেশ করা।’
গত দুই মাসে পেন্টাগন এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ‘পরিকল্পিতভাবে বন্ধ’ করেছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। তবে এসব কেন্দ্রের বিরুদ্ধে মেধাস্বত্ব চুরি বা অন্য কোনো গোপন তৎপরতার স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট মূলত চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি শেখানোর কেন্দ্র। ২০০৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে প্রথম এই ইনস্টিটিউট চালু হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে এর কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়ে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, এসব প্রতিষ্ঠানকে চীন রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কাজে ব্যবহার করছে।
বেইজিংয়ের প্রচারের হাতিয়ার হিসেবেও এগুলো কাজ করছে বলে অভিযোগ ওয়াশিংটনের। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক বছর ধরে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়ন পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্যও এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট বন্ধ করে দেয়। তবে হেগসেথের অভিযোগ, সেগুলোর কিছু পরে ভিন্ন নাম ও কাঠামোয় আবার কার্যক্রম শুরু করেছে। চীনের গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বিধিনিষেধেরও বিরোধিতা করেছে বেইজিং।
শুক্রবার চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, জাতীয় নিরাপত্তার নামে যুক্তরাষ্ট্র স্বাভাবিক বৈজ্ঞানিক সহযোগিতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। এতে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে দাবি করেছে তারা।
তবে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট নিয়ে হেগসেথের সর্বশেষ ঘোষণার বিষয়ে ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাস তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
সূত্র : আলজাজিরা




