বিশ্ব জুড়ে রমরমা বিক্রি, অথচ ঘরেই ‘চাহিদা নেই’ চীনা গাড়ির

ব্রাজিলের সাও পাওলোর সার্তাওজিনহোর মিউজু দা কানায় চীনা গাড়ি নির্মাতা বিওয়াইডির ব্রাজিলে তৈরি প্রথম প্লাগ-ইন হাইব্রিড ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ি উন্মোচন অনুষ্ঠানে একটি বিওয়াইডি সং প্রো ফ্লেক্স গাড়ি দেখছেন এক ব্যক্তি। ছবি : রয়টার্স
দেশের বাইরে দ্রুত বিস্তার ঘটাচ্ছে চীনের গাড়ি শিল্প। ইউরোপ থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে রমরমা চীনা গাড়ির চাহিদা। এতে টয়োটা ও ফক্সভাগেনের মতো প্রতিষ্ঠিত গাড়ি নির্মাতাদের ওপর বাড়ছে চাপ।
তবে একেবারেই ভিন্ন চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারের চিত্র। চীনে গাড়ি বিক্রি গত বছরের শেষ দিক থেকে কমছে ধারাবাহিকভাবে।
দেশের বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় বিদেশে বিক্রি বাড়ানোর তাগিদও বাড়ছে চীনা গাড়ি নির্মাতাদের। এতে কম দামের বৈদ্যুতিক গাড়ির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় থাকা ইউরোপীয় ও জাপানি নির্মাতাদের ওপর বাড়বে আরও চাপ।
সাংহাইভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অটোমোবিলিটির প্রধান নির্বাহী বিল রুশো বলেছেন, চীনা গাড়ি নির্মাতাদের অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা, প্রতিযোগিতামূলক সরবরাহ ব্যবস্থা এবং উন্নত পণ্য রয়েছে।
তার মতে, শীর্ষ চীনা গাড়ি নির্মাতাদের জন্য বিশ্ববাজারে প্রবেশ এখন কৌশলগত প্রয়োজন হয়ে উঠছে।
চায়না প্যাসেঞ্জার কার অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে চীনে গাড়ি বিক্রি এক বছর আগের তুলনায় এক-পঞ্চমাংশ কমে ১৪ লাখ ৭০ হাজার ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। এ নিয়ে টানা ১০ মাস দেশটির গাড়ি বিক্রি কমল।
অন্যদিকে একই সময়ে গাড়ি রপ্তানি ৮৮ শতাংশ বেড়ে ৯ লাখ ২৩ হাজার ইউনিটে পৌঁছেছে।
চায়না প্যাসেঞ্জার কার অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান কুই দংশু বলেছেন, জ্বালানির উচ্চ দাম পেট্রলচালিত গাড়ির চাহিদায় প্রভাব ফেলেছে।
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে চীনের অভ্যন্তরীণ গাড়ি বিক্রি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩ লাখ ইউনিট কমেছে। পতনের হার ২০ শতাংশ।
এইচএসবিসির বিশ্লেষক ইউকিয়ান ডিং মনে করেন, আগস্টের শেষ থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে চীনের অভ্যন্তরীণ গাড়ির চাহিদা স্থিতিশীল হতে পারে। নতুন মডেল বাজারে আসার গতি বাড়লে চাহিদা কিছুটা ফিরতেও পারে।
সূত্র : রয়টার্স







