দেশে দেশে ইরান চুক্তির প্রভাব

সংগৃহীত ছবি
স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এটি হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া এবং ৮ এপ্রিল থেকে শুরু যুদ্ধবিরতিকে আরও দৃঢ় করবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই দ্বিপক্ষীয় চুক্তির সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে মধ্যপ্রাচ্য এবং এর বাইরের অন্য দেশগুলোর ওপর। আটলান্টিক কাউন্সিলের বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন অঞ্চল ও দেশের ওপর চুক্তির প্রভাব মূল্যায়ন করেছেন।
উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো: আটলান্টিক কাউন্সিলের মিডল ইস্ট প্রোগ্রামের ননরেসিডেন্ট সিনিয়র ফেলো নিকোলাস হপটনের ভাষ্য, উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর (সৌদি, কাতার, আমিরাত, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইন) অর্থনীতিনির্ভর অবকাঠামোর পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হতে লেগে যেতে পারে এক বছর। ইরান যুদ্ধ নিয়ে রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পার্থক্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। মিত্র হিসেবে ওয়াশিংটনের নির্ভরযোগ্যতার ওপর আস্থা সম্ভবত কমেছে। ট্রাম্প তাদের আব্রাহাম অ্যাকর্ডস সম্প্রসারণ ও গভীর করার আহ্বান জানালেও রাষ্ট্রগুলো এটিকে অগ্রাধিকার দেবে না। বরং, তারা সম্ভবত এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি টেকসই চুক্তির আলোচনাকে সমর্থন করবে, যা ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক প্রক্সিদের বিঘ্ন সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ড ব্যাপকভাবে মোকাবিলা করবে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণে নতুন ব্যবস্থাগুলো মেনে নেবে, যাতে ভবিষ্যতে জলপথটি আবার বন্ধ হওয়া এড়ানো যায়। শিগগিরই তেহরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ জোট গড়ে তুলবে না। তবে, নতুন সংঘাতের ঝুঁকি কমানোর আশায় কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর চেষ্টা করবে।
ইসরায়েল: আটলান্টিক কাউন্সিলের ননরেসিডেন্ট সিনিয়র ফেলো শালোম লিপনার বললেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতা স্মারকে শুধু মৌখিক প্রতিশ্রুতি সীমাবদ্ধ। স্মারকে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার বা প্রক্সিদের প্রতি দেশটির পৃষ্ঠপোষকতার কোনো উল্লেখ নেই। ফলে ইসরায়েলকে এই অতিরিক্ত হুমকিগুলোর সঙ্গেও লড়াই করতে হবে।
লেবানন: আটলান্টিক কাউন্সিলের মিডল ইস্ট প্রোগ্রামের ননরেসিডেন্ট সিনিয়র ফেলো নিকোলাস ব্ল্যানফোর্ড জানান, চুক্তির ১৪টি ধারার তথ্য ইঙ্গিত দেয় যে, লেবাননের যুদ্ধ শেষ হবে। কিন্তু লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ নেই। ইসরায়েলের সঙ্গে লেবানন সরকারের আলোচনার কট্টর বিরোধী হিজবুল্লাহ নিজ দেশের সরকারকে উৎখাত করে এমন একটি সরকার বসানোর চেষ্টা করতে পারে, যারা তাদের নিরস্ত্রীকরণ প্রকল্প থেকে সরে আসবে।




