লুলাকে অভিনন্দন জানিয়ে বিশ্বনেতারা কে কী বললেন

বিজয়ের পর সমর্থকদের সঙ্গে উদ্যাপনে লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। ছবি: রয়টার্স
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চতুর্থবারের মতো জয় পেয়েছেন বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। রান অফ নির্বাচনে ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোকে হারিয়ে তার এ জয় বিশ্বনেতাদের নজর কেড়েছে।
বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার প্রধানরা লুলাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। কেউ এ জয়কে গণতন্ত্রের বিজয় হিসেবে দেখছেন, কেউ আবার ব্রাজিলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যাশা জানিয়েছেন।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে লুলাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘গণতন্ত্র দীর্ঘজীবী হোক, ব্রাজিলের জনগণ জয়ী হয়েছে।’
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি অভিনন্দন বার্তায় ব্রাজিল ও কানাডার সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে লুলার ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন।
কার্নি লিখেছেন, দুদেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। এতে নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরি, পরিবেশ সুরক্ষা এবং দুই দেশের মানুষের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রগতিশীল সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স লুলার বিজয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, লুলা শ্রমজীবী মানুষ ও গণতন্ত্রের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। আগামী চার বছরও তিনি এ ভূমিকা অব্যাহত রাখবেন।
দেশটির কংগ্রেস সদস্য রো খান্না এক্সে লিখেছেন, বিশ্ব জুড়ে মানুষ চরমপন্থার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। ব্রাজিলে লুলার জয় সেই লড়াইয়ে একটি সাফল্য।
নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি লিখেছেন, ‘ঐক্যবদ্ধ জনগণকে কখনো পরাজিত করা যাবে না।’
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম এক বিবৃতিতে বলেছেন, গণতন্ত্র রক্ষা, পরিবেশ সুরক্ষা, শ্রমিকদের অধিকার জোরদার এবং শ্রমজীবী পরিবারের উপযোগী অর্থনীতি গড়ে তোলার অঙ্গীকারে ব্রাজিল ও বিশ্বের অন্যান্য অংশীদারের পাশে থাকতে পেরে তিনি গর্বিত।
কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াস-কানেল লুলার জয়কে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, এ জয় ব্রাজিলের জনগণের বেছে নেওয়া শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পথ অব্যাহত রাখবে।
চিলির প্রেসিডেন্ট হোসে আন্তোনিও কাস্ত জানিয়েছেন, লুলার সঙ্গে ফোনে কথা বলে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি।
কাস্তের ভাষ্য, চিলি ও ব্রাজিলের সামনে যৌথভাবে এগিয়ে যাওয়ার অনেক সুযোগ রয়েছে। অর্থনৈতিক সংহতি বাড়ানো এবং অঞ্চল জুড়ে সংগঠিত অপরাধ মোকাবিলায় দুই দেশ কাজ চালিয়ে যাবে।
পেরুর প্রেসিডেন্ট কেইকো ফুজিমোরি অভিনন্দন বার্তায় ব্রাজিলের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব, আঞ্চলিক সংহতি ও সহযোগিতা জোরদারের আগ্রহ জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে দুই দেশের অংশীদারত্বের আওতায় থাকা আমাজন অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ বলেছেন, বলিভিয়া ও ব্রাজিল প্রতিবেশী ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ। অভিন্ন ইতিহাস ও চ্যালেঞ্জ দুই দেশকে একসূত্রে বেঁধেছে।
পানামার প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো ব্রাজিলের জনগণকে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। দুই দেশের স্বার্থে যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ও জানিয়েছেন তিনি।
ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া লুলাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, এ অঞ্চলের দেশগুলোর অভিন্ন শত্রু ও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একসঙ্গে কাজ করলে সবারই লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা ব্রাজিলের জনগণের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, প্যারাগুয়ে ও ব্রাজিলের মধ্যে আঞ্চলিক সংহতি ও উন্নয়নের অভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে। জনগণের কল্যাণে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে।
উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট ইয়ামান্দু ওরসি জানিয়েছেন, লুলার সঙ্গে তার কথা হয়েছে। তিনি লুলাকে বিজয়ের জন্য এবং নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের উদ্যাপনের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন।
আর্জেন্টিনার সাবেক প্রেসিডেন্ট ক্রিস্তিনা কির্চনারও লুলাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এক্সে দেওয়া বার্তায় তিনি প্রথমে ব্রাজিলের জনগণকে অভিনন্দন জানান। এরপর লুলার প্রশংসা করে বলেন, তিনি নিজের দেশের মানুষের মধ্যে অনুভূতি ও জয়ের আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তুলতে পেরেছেন।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন লুলাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, ব্রাজিলে গণতন্ত্র ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতার জয় হয়েছে।
তিনি আরও লিখেছেন, ইউরোপ ও ব্রাজিলের অংশীদারত্ব এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী বছরগুলোতেও ইউরোপ ব্রাজিলের পাশে থাকবে। দুই পক্ষ মুক্ত ও উন্মুক্ত বাণিজ্য, নিয়মভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা এবং জলবায়ু সুরক্ষায় উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য অর্জনে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
সূত্র : আল জাজিরা





