এবার চীন সফরে যাচ্ছেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খনাল-আরএসএস
ভারত সফরের সপ্তাহ পেরোতেই বেইজিং সফরের ঘোষণা দিয়েছেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খনাল। নেপাল ও চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল শুক্রবার জানিয়েছে, আগামী রবিবার থেকে রাষ্ট্রীয় চীন সফর শুরু হবে খনালের।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই প্রতিবেশী দেশের (ভারত ও চীন) সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখার অংশ হিসেবেই নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফর।
নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর আমন্ত্রণে এই সফর। বেইজিংয়ে দুদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে সোমবার। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানালেন, এই সফরে বিশেষভাবে গুরুত্ব পাবে কাঠমান্ডু ও বেইজিংয়ের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থা বাড়ানোর বিষয়টি।
নেপালি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খনাল তার সাম্প্রতিক ভারত সফরেও একই ধরনের বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন।
গত সেপ্টেম্বরে ঐতিহাসিক ‘জেন জি’ আন্দোলনের পর নেপালে আগাম নির্বাচন হয়। নির্বাচনে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই কাঠমান্ডু ও বেইজিংয়ের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, খনাল ১৪ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত চীনে অবস্থান করবেন।
গত মার্চ মাসের নির্বাচনের পরপরই চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কিছু নেতা কাঠমান্ডু সফর করেন। নেপালের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির (আরএসপি) শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। নতুন সরকার পশ্চিমা ঘেঁষা কোনো নীতি গ্রহণ করবে কি না— তা নিয়ে তাদের মনে কিছুটা উদ্বেগ ছিল। এই কারণে আরএসপি নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নেয়। নেপালের মূল পররাষ্ট্র নীতি থেকে তারা সরবে না। এই বিষয়টি দুই প্রতিবেশী দেশকেই (চীন ও ভারত) নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে জোর দেয় তারা।
সম্প্রতি নেপাল ও চীন বেশ কিছু চুক্তি ও সমঝোতা করেছে। যার মধ্যে রয়েছে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই), ট্রান্স-হিমালয়ান মাল্টি ডাইমেনশনাল কানেক্টিভিটি নেটওয়ার্ক এবং কেরুং থেকে কাঠমান্ডু পর্যন্ত চীনা রেললাইন সম্প্রসারণের প্রস্তাবিত প্রকল্প।
কর্মকর্তারা জানালেন, নেপালের সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগ বাড়াতে চীনের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। তাই এই সফরে অবকাঠামো উন্নয়ন, নেপালের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, সীমান্ত পারাপার, পর্যটন খাতের পুনরুজ্জীবন এবং বিআরআইয়ের আওতাধীন প্রকল্পগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।




